চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ৯৮তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে নড়াইলে অনুষ্ঠিত হলো ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা। শনিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে চিত্রা নদীতে এ নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়। পুরুষদের পাশাপাশি এবছরও প্রমীলা নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা বাইচের নৌকায় বাহারি সাজে মাঝি মাঝি মাল্লারা প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। বর্ণীল এ আয়োজনকে ঘিরে হাজারও মানুষের ঢল নামে চিত্রার পাড়ে।
এদিকে নৌকা বাইচকে ঘিরে এদিন যেন উৎসবে মেতে ছিল নড়াইল। সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে হাজারও মানুষের পদ চারণায় মুখর হয়ে ওঠে নড়াইল। বাইছে অংশ নিতে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা বাইছের নৌকায় বাহারি সাজের মাঝি-মাল্লারা রেফারির বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে বিজয়ের লক্ষে দুরন্ত গতিতে ছুটে চলে।
তাদের ছন্দময় বৈঠা চালনায় মেতে ওঠে চিত্রা ও তার দু’কূল। তুমুল এ প্রতিযোগিতায় নারীদের তিনটি এবং পুরুষদের ১৫টি সহ মোট ১৮টি নৌকা অংশ নেয়।
এসএম সুলতান ফাউন্ডেশনের আয়োজনে চিত্রা নদীর সাবেক ফেরিঘাট থেকে এসএম সুলতান সেতু পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার পাল্লার এ নৌকা বাইচ উপলক্ষে এলাকা জুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ।
ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজন উপভোগ করতে চিত্রার দু’পাড়ে নানা বয়সের মানুষের ঢল নামে দুপুর থেকেই। গ্রামীণ সংস্কৃতির অন্যতম ধারক নৌ বিহারে মনোজ্ঞ সারিগান পরিবেশনা মুগ্ধ করে দর্শনার্থীদের।
নৌকা বাইচের উদ্বোধন ও পুরস্কার প্রদান করেন খুলনার বিভাগীয় কমিশনার মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরী।
আরও পড়ুন: জব্দ করা ১৩শ' লিটার সয়াবিন এতিমখানায় বিতরণ
প্রমীলা গ্রুপে নড়াইল সদরের পুতুল মজুমদারের চিত্রাকলি প্রথম, মনিহার পালের কুসুম কলি দ্বিতীয় ও গানের পাখী তৃতীয় হয়েছে।
অপর দিকে পুরুষের টালাই নৌকার মধ্যে খুলনা জেলার দিঘলিয়ার সোনার বাংলা প্রথম, গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গীপাড়ার জয় মা দুর্গা দ্বিতীয় ও একই এলাকার জয় মা কালি তৃতীয় হয়েছে।
কালাই নৌকার মধ্যে গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গীপাড়ার মা শীতলা প্রথম, মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুরের আতর আলির নৌকা দ্বিতীয় ও গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানীর সোনার তরি তৃতীয় হয়েছে।
একাত্তর/এসি