নরসিংদীতে পিকনিকে এসে মেঘনায় গোসল করতে নেমে নিখোঁজ দুই মাদ্রাসাছাত্রের মধ্যে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার ২০ ঘণ্টা পর তার মরদেহটি উদ্ধার হয়।
শুক্রবার (২৮ অক্টোবর) বেলা ১টার দিকে আলোকবালী ইউনিয়নের চর আফজালের মেঘনা নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নরসিংদীর করিমপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ফরিদুল আলম।
জানা গেছে, নিহত মো. গালিব হক (১৫) পলাশ থানার ঘোড়াশাল পৌরসভার দড়িপাড়া গ্রামের আজিজুল হকের ছেলে।
নিখোঁজ অপর ছাত্র হলেন- রায়পুরা উপজেলার বড়ইতলা গ্রামের হারুন মিয়ার ছেলে সহিদুল ইসলাম মাহফুজ (১৭)।
তারা দুইজনই সদর উপজেলার ঘোড়াদিয়া মুহম্মদীয়া ইন্টারন্যাশনাল তাহফুজুল কুরআন মাদরাসার শিক্ষার্থী এবং কুরআনে হাফেজ ছিলেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৫টার দিকে পিকনিকে গিয়ে ফুটবল খেলা শেষে অন্যান্যদের সঙ্গে মেঘনা নদীতে গোসল করতে নেমে তারা নিখোঁজ হন।
নৌ-পুলিশ ও স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে মাদরাসার বার্ষিক পিকনিকে শিক্ষকসহ ৩২ জন আলোকবালী ইউনিয়নের চর আফজালে যান। বিকেলে ফুটবল খেলা শেষে ৫টার দিকে মেঘনা নদীতে তারা গোসল করতে নামেন।
এসময় শিক্ষকসহ বাকি ৩০ জন উঠে আসলে অনেক খোঁজাখুঁজির পরেও ওই দুই ছাত্রকে আর পাওয়া যায়নি। পরে পুলিশকে বিষয়টি জানানো হলে সদরের করিমপুর নৌ-পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। অনেক খুঁজাখুঁজি করে তাদের না পেয়ে এবং ডুবুরি দল না থাকায় এদিন রাত ৯টায় তারা উদ্ধার অভিযান শেষ করেন।
আরও পড়ুন: গোসলে নেমে নিখোঁজের একদিন পর মাদ্রাসাছাত্রের মরদেহ উদ্ধার
পরে শুক্রবার সকালে টঙ্গী থেকে পাঁচ সদস্যের একটি ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আবার উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। তারা দীর্ঘক্ষণ নদীতে খোঁজাখুঁজি করে দুপুর ১টার দিকে ঘটনাস্থলের কাছ থেকে গালিবের মরদেহ উদ্ধার করেন।
করিমপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক মো. ফরিদুল আলম বলেন, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর থেকেই তাদের উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে। ইতোমধ্যে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি একজনকে উদ্ধারে নৌ-পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরি দল একসঙ্গে কাজ করছে।
একাত্তর/এসজে