নিখোঁজ প্রবাস ফেরতের মরদেহ মিললো আলুক্ষেতে

বগুড়ার আদমদীঘির এক প্রবাস ফেরত ব্যক্তির ক্ষতবিক্ষত মরদেহ নওগাঁ সদরের গাবতলী এলাকার এক আলুর ক্ষেত থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

বুধবার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে বেলা ১১টায় নওগাঁ সদর মডেল থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করেছে। 

জানা গেছে, নিহত জালাল উদ্দিন (৫৫) বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার দমদমা গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিন প্রামাণিকের ছেলে। তিনি গরু কেনাবেচার ব্যবসা করতেন বলে জানা গেছে। 

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, জালাল উদ্দিন প্রায় ১৫ বছর মালয়েশিয়া থেকে প্রায় পাঁচ বছর আগে দেশে ফিরে গরু কেনাবেচার ব্যবসা করে আসছিলেন। আগেরদিন বিকেলে গ্রামের বাড়ি থেকে বাইসাইকেলে পার্শ্ববর্তী সান্তাহার রাধাকান্ত হাটে বাজার করার জন্য বের হন তিনি। এরপর তিনি আর বাড়ি ফিরেননি। পরিবারের লোকজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজখুঁজি করেও তার কোনো হদিস পায়নি এবং তার মোবাইলটিও বন্ধ পাওয়া গেছে।

গাবতলী এলাকার স্থানীয়রা জানান, সকালে নওগাঁ সদরের গাবতলী নামক স্থানে এলাকার একটি আলুক্ষেতে জালাল উদ্দিনের রক্তমাখা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে নওগাঁ সদর থানা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে। 

নিহতের বড় ভাই আফজাল হোসেন জানান, পরিচিতদের মধ্যেই শত্রুতা বশত কেউ তাকে হাট থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে তার মরদেহ আলুক্ষেতে ফেলে গেছে। দ্রুত এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

আরও পড়ুন: ঝালকাঠিতে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে যুবক আটক

বগুড়ার আদমদিঘীর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা জানান, জালাল উদ্দিন কিভাবে মারা গেছে তার সঠিক কারণ জানা সম্ভব হয়নি। তার সাথে কারো কোন বিবাদ বা পূর্ব শত্রুতা আছে কিনা তা খুঁজে দেখা হচ্ছে।

নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়সাল বিন আহসান জানান, মরদেহের পাশেই তার হাটের সবজি ভরা ব্যাগ, মোবাইল ফোন ও বাইসাইকেল পড়েছিল। মরদেহের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। স্থানীয় কিছু ব্যক্তির সাথে তার বিবাদ ছিলো বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। হয়তো সে বিবাদের জেরেই তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান ওসি।


একাত্তর/জো