পটুয়াখালী-ঢাকা নৌ রুটে চলাচলকারী সুন্দরবন লঞ্চের সুপারভাইজার আব্দুর রাজ্জাক হত্যার বিচারের দাবি জানিয়েছে পটুয়াখালী পৌরবাসী।
রোববার (১৫ জানুয়ারি) বিকাল চারটার দিনকে পটুয়াখালী লঞ্চ টার্মিনালে পটুয়াখালী পৌরবাসীর ব্যানের এক মানববন্ধন ও সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিভিন্ন শ্রেণি, পেশাজীবিসহ সাধারণ জনগণ অংশ নেন।
এসময় বক্তারা বলেন, লঞ্চের ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ ইউনুস ও কেরানী মশিউর রহমান দুজনে মিলে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। যতোদিন পর্যন্ত বিচার না হবে ততোদিন আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে।
তারা বলেন, রাজ্জাক ভাই আমাদের সবার প্রিয় একজন ছিলেন। দল,মত নির্বিশেষে সবাই তাকে ভালবাসতেন। একজন বিশ্বস্ত প্রামাণিককে আমরা হারিয়েছি।
এদিকে সুন্দরবন লঞ্চের মালিক সাইদুর রহমান রিন্টু মুঠোফোনে বলেন, রাজ্জাক ও ইউনুস আমার সন্তানদের মতো। কাউকে ছোট করে বা অন্য একজনকে বড় করে দেখার সুযোগ নেই। আইনের গতি অনুসারে এর বিচার হবে, এতে আমাদের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ থাকবে না।
পটুয়াখালী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো মনিরুজ্জামান জানান, রোববার (১৫ জানুয়ারি) নিহত আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী আসমা বেগম বাদি হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় আটক ওই লঞ্চের ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ ইউনুস ও কেরানি মশিউর রহমানকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাদের জেল হাজতে পাঠিয়েছে।
আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিবন্ধীর ছুরিকাঘাতে পুলিশ গুরুতর আহত
উল্লেখ্য, শনিবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে পটুয়াখালী নদী বন্দরে নোঙ্গররত অবস্থায় এমবি সুন্দরবন-১৪ লঞ্চে কেরানি মশিউর রহমানের হামলায় গুরুতর অসুস্থ হন সুপারভাইজার আব্দুর রাজ্জাক। পরে হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি মারা যান।
রাজ্জাকের পরিবারে অভিযোগ, লঞ্চের ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ ইউনুসের ইন্ধনে এই হামলা হয়েছে।
এদিকে ওই ঘটনার পর অভিযুক্ত দুজন লোহালিয়া খেয়াঘাট দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয় লোকজন তাদের আটক করে থানা পুলিশের সোপর্দ করে। পরে পুলিশ তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদে থানা নিয়ে আসে।
একাত্তর/এসি