মেয়ের স্বপ্ন ছিল বড়ো ফার্মাসিস্ট হওয়া। আর এ স্বপ্ন শুধু নাদিয়ার নয়, ছিল পুরো পরিবারের। কিন্তু সেই স্বপ্ন পিষ্ট হলো সড়কে। মেয়ের দাফনের সঙ্গে মাটি চাপা পড়ে গেলো পুরো পরিবারের প্রত্যাশা, যা আর কোনো দিনই মাথা তুলে দাঁড়াবেনা।
এক বুক কষ্ট নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন নাদিয়ার বাবা জাহাঙ্গীর হোসেন।
রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় ভিক্টর পরিবহন বাসের ধাক্কায় নিহত নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাদিয়া সুলতানার বাড়ি পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে।
সোমবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূর্ব নেতা গ্রামের নিজ বাড়িতে তার মৃতদেহ দাফন করা হয়। তার মৃত্যুতে শোকে বিহ্বল পুরো পুরিবার, সঙ্গে বুক ভারী হয়ে এসেছে পাড়া প্রতিবেশীদেরও।
জানা গেছে, তিন বোনের মধ্যে সবার বড়ো নাদিয়া। বাবা জাহাঙ্গীর হোসেন একটি পোশাক কারখানায় সহকারী মহাব্যবস্থাপক পদে চাকরি করেন।
পরিবার জানায়, ফার্মাসিস্ট হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দুই সপ্তাহ আগে রাজধানীর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালটিতে ভর্তি হয় নাদিয়া। ক্লাস করতে এক সপ্তাহ আগে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা বাসা ছেড়ে উত্তরার একটি মেসে ওঠেন।
রোববার ক্লাস না থাকায় এক বন্ধুর সঙ্গে তার মোটরসাইকেলে করে বই কিনতে উত্তরার বাসা থেকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় যাচ্ছিলেন নাদিয়া। পথে প্রগতি সরণীতে তাদের মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয় ভিক্টর ক্ল্যাসিক পরিবহনের একটি বাস। এতে তারা রাস্তায় ছিটকে পড়েন। বাসটি চাপা দিয়ে ঘটনাস্থলেই নাদিয়ার মৃত্যু হয়।
এদিকে ওই দিন স্থানীয়রা ঘাতক বাস জব্দ করলেও পালিয়ে গিয়েছিলেন এর চালক ও সহকারী। পরে সোমবার (২৩ জানুয়ারি) ভাটারা থানা পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।
তারা হলেন- চালক মো. লিটন (৩৮) ও তার সহকারী মো. আবুল খায়ের। তাদের দুজনের বাড়ি ভোলা জেলায়।
আরও পড়ুন: ইভিএম প্রকল্প ‘আপাতত’ স্থগিত, যা আছে তাই দিয়ে নির্বাচন
ডিএমপির গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আ. আহাদ জানিয়েছেন, সোমবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে বাড্ডা থানার আনন্দনগর এলাকায় সার্জেন্ট টাওয়ারের পেছন থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এর আগে রোববার (২২ জানুয়ারি) এ ঘটনায় ভাটারা থানায় মামলা করেন নাদিয়ার বাবা জাহাঙ্গীর আলম।
একাত্তর/এসি