শূন্যরেখার রোহিঙ্গাদের উখিয়ায় হস্তান্তর শুরু

তুমব্রু সীমান্তের শূন্যরেখায় মিয়ানমারের দুই সশস্ত্র সংগঠনের সংঘর্ষের সময় বাড়িঘর পুড়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের উখিয়ার কুতুপালংয়ে হস্তান্তর শুরু হয়েছে।  

রোববার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে তুমব্রু থেকে ১৮০ জন রোহিঙ্গাকে বালুখালী জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) ট্রানজিট ক্যাম্পে স্থানান্তর করা হয়। পর্যায়ক্রমে বাকীদেরও নিয়ে আসা হবে। 

জানা গেছে, পাঁচ বছর ধরে শূন্যরেখায় বসবাসকারী রোহিঙ্গাদেরও রাখা হবে ১২ লাখ রোহিঙ্গার সাথে।

অতিরিক্ত শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার শামদ্দুজা নয়ন বললেন, ট্রানজিট ক্যাম্পে আনা রোহিঙ্গাদের হেলথ স্ক্রিনিং ও তাদের বিরুদ্ধে অপরাধে জড়ানোর কোন অভিযোগ আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, তুমব্রুতে আশ্রয় নেওয়া শূন্যরেখার রোহিঙ্গাদের যাচাই-বাছাই শেষে সেখানে থাকা মোট ৫৬২ পরিবারের দুই হাজার ৯৭০ রোহিঙ্গার তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রথম দিনে ৩৭ পরিবারের ১৮০ জন রোহিঙ্গাকে ট্রানজিট পয়েন্টে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বাকিদেরও পর্যায়ক্রমে হস্তান্তর করা হবে। 

তিনি আরও জানান, এসব রোহিঙ্গাদের মধ্য যাদের তথ্য বিভিন্ন ক্যাম্পে আগে থেকে অন্তর্ভুক্ত আছে, তাদের সেসব ক্যাম্পে পাঠানো হবে। বাকিদের নতুন করে আঙুলের ছাপ সংগ্রহ ও ছবি তোলার কাজ শুরু করা হবে। এরপর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আজিজ জানান, সকালে তুমব্রু বাজারে আশ্রয় নেওয়া শূন্যরেখার রোহিঙ্গাদের ইউনিয়ন পরিষদে আনা হয়। পরে সেখানে সিআইসির মাধ্যমে তাদের টোকেন দিয়ে বাসে করে কুতুপালংয়ে পাঠানো হয়। বাকিদেরও একই প্রক্রিয়ায় পাঠানো হবে। 

আরও পড়ুন: হত্যা মামলার আসামিকে কুপিয়ে হত্যা

উল্লেখ্য, গত ১৮ জানুয়ারি রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও) এবং আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) মধ্যকার সংঘর্ষে শূন্যরেখার রোহিঙ্গা শিবিরে আগুনে পুড়ে বসতবাড়ি হারিয়ে তুমব্রু গ্রামে প্রায় তিন হাজার রোহিঙ্গা আশ্রয় নেয়। এরপর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে গত ২৮ জানুয়ারি একটি কমিটি ওই রোহিঙ্গাদের তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষে তাদের হস্তান্তর কার্যক্রম শুরু করে।


একাত্তর/জো