অবশেষে ইন্দোনেশিয়ার নিকির সাথে বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন ইমরান

দীর্ঘ পাঁচ বছর অপেক্ষার পর পটুয়াখালী বাউফলের মো. ইমরান হোসেনের সাথে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন ইন্দোনেশিয়ার তরুণী নিকি উল ফিয়া।   

সোমবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে ইন্দোনেশিয়ার একটি ফ্লাইটে করে বাংলাদেশের শাহজালাল বিমানবন্দরে আসেন নিকি। 

এরপর ঢাকা থেকে লঞ্চযোগে বুধবার (১ মার্চ) সকালে পটুয়াখালীর বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আমলী আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আশিকুর রহমানের কাছে উপস্থিত হয়ে বিজ্ঞ আইনজীবীর সহযোগিতায় এফিডেফিটের মাধ্যমে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার ঘোষণা দিলে আদালত তাদের বিয়ের অনুমতি দেয়। এরপর তারা গ্রামের বাড়ি চলে যান।

বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) কাজী অফিসের কাবিননামা ও ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক সেখানে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হবে।   


জানা গেছে, দেলোয়ার হোসেনের ছেলে ইমরান ঢাকার একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করেন। বর্তমানে তার বয়স ২৫ বছর। আর নিকি উল ফিয়ার বয়স ২৩ বছর। নিকি ইন্দোনেশিয়ার সুরাবায়া প্রদেশের জেম্বার এলাকার বাসিন্দা ইউলিয়ানতোর মেয়ে। তার মায়ের নাম শ্রীআনি। ইন্দোনেশিয়ায় তরুণীর বাবা-মায়ের সম্মতিতে বিয়ের তারিখ ও সময় ঠিক করা হয়েছে বলে জানান ইমরানের বাবা। 

ইমরান হোসেন বলেন, ‘নিকির সাথে আমার ফেসবুকে পরিচয় এবং পাঁচ বছরের প্রেমের সম্পর্ক। আমরা আদালতে এসে বাংলাদেশি আইনে নিয়ম অনুযায়ী বিয়ের প্রথম ধাপ সম্পন্ন করছি। আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’

ইন্দোনেশিয়ান তরুণী নিকি উল ফিয়া বলেন, ‘বাংলাদেশ আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে। আজকের দিনের জন্য আমি খুব খুশি এবং আমি সারা জীবন বাংলাদেশ থেকে যাব।’


ইমরানের মা মোসাম্মৎ বিথী আকতার বলেন, ‘যেহেতু সে অন্য একটি দেশের মেয়ে আমাদের বাংলাদেশে এসেছে। আমার কাছে ভালো লাগছে। আমরা ছোট পরিসরে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বিয়ের আয়োজন করেছি।

আরও পড়ুন: প্রাথমিকে বৃত্তি: ফলাফলে ত্রুটির ঘটনায় তদন্ত কমিটি

আইনজীবী মো. আল আমিন হাওলাদার জানান, বাউফলের দাসপাড়া ইউনিয়নের ইমরান হোসেনের সাথে ইন্দোনেশিয়ার মেয়ে নিকি উল ফিয়ার বিয়ের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এরপরে কাজীর মাধ্যমে কাবিননামা রেজিস্ট্রি ও ইসলামিক শরিয়া মোতাবেক পারিবারিকভাবে বিয়ের কাজ সম্পন্ন করা হবে।

প্রসঙ্গত, এর আগেও ২০১৭ সালে আরেকবার বাউফলে এসেছিলেন ইন্দোনেশিয়ান তরুণী নিকি। তবে তখন তার বয়স ২১ বছর না হওয়ায় আইনি জটিলতায় বিয়ে করতে পারেননি। তখন তিনি দেশে ফিরে যান। পাঁচ বছর অপেক্ষার পর অবশেষে তাদের স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে। 


একাত্তর/এসজে