পটুয়াখালীর গলাচিপায় উলানিয়া হাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষিকা দীপা রানী দাসের (৫১) রহস্যজনক ও অস্বাভাবিক মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে গলাচিপা উপজেলার রতনদী-তালতলী ইউনিয়নের উলানিয়া হাট স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাস ও উলানিয়া বাজার এলাকায় এ কর্মসূচির আয়োজন করেন ক্ষুব্ধ সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। মানববন্ধনে কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন।
উলানিয়া হাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. মাহফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তারা দীপা রানী দাসের মৃত্যুকে রহস্যজনক আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
সমাবেশে সহকারী অধ্যাপক মো. এমদাদ হোসেন বলেন, দীপা ম্যাডামের মতো একজন দায়িত্বশীল শিক্ষক আত্মহত্যা করতে পারেন বলে আমরা বিশ্বাস করি না। চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার ওপর নির্যাতন চালাতেন। আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে দুই-তিনবার তাদের বাড়িতে গিয়ে সমঝোতার চেষ্টা করা হয়েছিলো। তারা নির্যাতন করবে না বলে আশ্বাস দিলেও সেই প্রতিশ্রুতি রাখেনি। এর আগেও কয়েকবার তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিলো এবং তখন পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।

মানববন্ধনে উপস্থিত দীপা রানীর বড়ো বোন রাসমনি দাস সাংবাদিকদের বলেন, বিয়ের পর থেকেই দীপার স্বামী সব্যসাচী সরকার বিভিন্ন সময় তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন। তিনি এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়িদের কঠোর শাস্তি দাবি করেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, দীপা ম্যাডাম অত্যন্ত সৎ ও নিষ্ঠাবান ছিলেন। তার এই অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কোনোভাবেই রহস্যের আড়ালে চাপা দিতে দেওয়া হবে না।
জানা যায়, গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার হিজলবাড়ী গ্রামের যোগেশ চন্দ্র দাসের মেয়ে দীপা রানী দাস উলানিয়া হাট স্কুল অ্যান্ড কলেজে হিন্দু ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার মধ্য রণগোপালদী গ্রামের সব্যসাচী সরকারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিলো।

গত ৯ জুলাই রাতে দশমিনা উপজেলার রণগোপালদী গ্রামে স্বামীর বাড়ির শয়নকক্ষ থেকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দীপা রানী দাসের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
দশমিনা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আতিকুর রহমান বলেন, প্রাথমিক আলামতের ভিত্তিতে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা হয়েছে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে।
সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠান পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মো. মকবুল হোসেন খান, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মোশাররফ হোসেন, প্রধান শিক্ষক মো. মজিবুর রহমান, শিক্ষক গৌরাঙ্গ হালদার ও ব্যবসায়ী নেতা অবনী দেবনাথ।
সমাবেশ শেষে শিক্ষার্থীরা একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি কলেজ ক্যাম্পাস থেকে শুরু হয়ে উলানিয়া বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় ক্যাম্পাসে এসে শেষ হয়।
