রাবিতে সংঘর্ষ থেমেছে, গেটে বিজিবি মোতায়েন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় বিনোদপুর গেটে সাত প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়াও রাবির বিনোদপুর গেটের সামনে ও শহরে টহল দিচ্ছে পুলিশ ও র‍্যাব। 

রাত দুইটার পরে শিক্ষার্থীরা হলে ফিরে গেলে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আসে। সকাল ১০টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা হলেই অবস্থান করছেন। তবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিনোদপুর বাজারে এখনো থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। তালাইমারী থেকে চৌদ্দপাই এলাকায় রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়ক বন্ধ করে রেখেছে পুলিশ। ঘটনাস্থলে ব্যাপক পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। তবে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বিনোদপুর বাজারে তাদের দোকানের সামনে অবস্থান নিয়ে আছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব পরিমাণ করা হচ্ছে।

শনিবার (১২ মার্চ) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষ চলে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত। সংঘর্ষে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

রাবির বিনোদপুর গেটের সামনে এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান উল ইসলাম দাবি করেছেন, সংঘর্ষে আহত শিক্ষার্থীর সংখ্যা দুইশর বেশি। তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানান, সৈয়দপুর থেকে রাজশাহী আসছিলেন সমাজকর্ম বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের এক ছাত্র। বাসে তার সঙ্গে সুপারভাইজার খারাপ আচরণ করেন। বাসটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিনোদপুর গেটে পৌঁছালে ওই শিক্ষার্থী বাস সুপারভাইজারের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এসময় বিনোদপুরের এক স্থানীয় বাকবিতণ্ডায় যুক্ত হন। স্থানীয় ব্যক্তি ওই শিক্ষার্থীকে লাঞ্ছিত করেন। এর সূত্র ধরে স্থানীয় ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। 

জানা গেছে, স্থানীয়রা কয়েক দফা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিনোদপুর গেট দিয়ে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীর ওপর হামলা চালায়। ইট পাটকেল ছুঁড়তে থাকে। তারা এসময় পেট্রোল বোমা ছোড়ে বলেও শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন। 

সংঘর্ষের সময় বিনোদপুর পুলিশ ফাঁড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। আগুন বাজারেও ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে। তবে পুলিশ ফাঁড়িতে কারা আগুন দিয়েছে তা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি। 

রাজশাহী নগর পুলিশের কমিশনার আনিসুর রহমান জানান, রাত সাড়ে ১০ টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার শেল-রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে সারারাত পাহারা দিয়েছেন। রাত দুইটার পর থেকে শিক্ষার্থীরা হলে ফিরে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তারপর থেকে আর হামলার ঘটনা ঘটেনি।


একাত্তর/জো