পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে বালুবাহী জাহাজের ইঞ্জিন রুম থেকে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় শাকিল আকন (২০) নামে এক শ্রমিকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ।
সোমবার (১৪ মার্চ) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার সুবিদখালী বন্দরের পশ্চিম পার্শ্বে বেড়ের ধন নদে নোঙ্গর করা বালুবাহী জাহাজের ইঞ্জিন রুম থেকে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত শাকিল আকন বাকেরগঞ্জ উপজেলার পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের পূত্র।
স্থানীয় বাসিন্দা মজিবুর রহমান মোল্লা ও আবু সিকদার জানান, নিহত শাকিল আকন নাঈম প্লাস নামের বালুবাহী জাহাজে রান্নার কাজ করতো। সোমবার রাত ১০টার দিকে জাহাজের সুকানি সোহাগ সিকদার ও নিহত শাকিল বালুর হিসাব-নিকাশ করতে ঘটনাস্থলের উত্তর পার্শ্বে আলআমিন ট্রেডার্সে যান। হিসাব চলাকালে নিহত শাকিল সুকানির নিকট থেকে টাকা নিয়ে চা পান শেষে জাহাজে ফিরে যাওয়ার জন্য
আল আমিন ট্রেডার্স এর অফিস থেকে চলে যায়।
হিসাব-নিকাশ শেষে রাত ১১টার দিকে জাহাজে ফিরে শাকিলকে না পেয়ে ইঞ্জিন ও বিশ্রামরুম বন্ধ থাকায় শাকিলের মোবাইল নম্বরে কল দেয়, ইঞ্জিন রুমের ভিতর থেকে মোবাইলের রিংটোনের শব্দ পেয়ে রুমের সামনে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকি করে কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে ইঞ্জিন রুমের দরজার ছিটকানি (লক) ভেঙ্গে রুমে ঢুকে শাকিলকে জাহাজের অ্যাঙ্গেলের সাথে লাইলনের দিয়ে গলায় পেঁচানো অবস্থায় ঝুলে থাকতে দেখে চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে শাকিলকে এই অবস্থায় ঝুলে থাকতে দেখে পুলিশে সংবাদ দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আনোয়ার হোসেন জানান, একটি মেয়ের সাথে নিহত শাকিলের প্রেমের সম্পর্ক ছিল, প্রাথমিক তদন্তে এমনটা জানতে পেরেছি। মেয়েটির সাথে কোন বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য হওয়ায় সে আত্মহত্যা করতে পারে বলে ধারনা করছি। লাশের পার্শ্বে থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল সেটটি উদ্ধার করছি। মোবাইল সেটটি আনলক করে সাম্প্রতিক সময়ে আসা-যাওয়া কল রেকর্ড অনুসন্ধান করলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন করতে পারবো বলে আশা কররছি।
ময়না তদন্তের জন্য লাশ পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মির্জাগঞ্জ থানার একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।
একাত্তর/এআর