ফলন ভালো ও লাভজনক হওয়ায় সূর্যমুখী ফুল চাষে বেশি করে আগ্রহী হয়ে উঠছেন সিরাজগঞ্জের কৃষক। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চরাঞ্চলগুলোতে এই ফুলের চাষ বেশি হচ্ছে। আর সূর্যমুখীর আবাদ বাড়াতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রণোদনাসহ নানা পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
সিরাজগঞ্জের যমুনার চরাঞ্চলে কৃষি জমিতে নানা ধরনের ফসলের পাশাপাশি এখন জায়গা দখল করে নিয়েছে সূর্যমুখী ফুল। বিস্তীর্ণ জমিতে আবাদ হচ্ছে এই ফসল। এসব এলাকার কৃষকদের পরম যত্নে বেড়ে উঠেছে সূর্যমুখী ফুলের প্রতিটি গাছ।
মাত্র ১০০ দিনে ঘরে তোলা যায় সূর্যমুখী বীজ। এছাড়া অন্য ফসলের চেয়ে ফলন ভালো ও তুলনামূলক লাভ বেশি হওয়ায় কৃষকরা এই ফসল আবাদে আগ্রহী হচ্ছেন। তেলবীজ কৃষি প্রণোদনার আওতায় বিনামূল্যে সূর্যমুখীর বীজ ও সার দিয়ে এই ফুলের চাষ করা হয়েছে।
সদর উপজেলার বাগবাটি এলাকার কৃষক হানিফ সরকার জানান, অন্য ফসল আবাদের চেয়ে এই ফুল চাষে জমিতে সেচ ও সারের খরচ কম লাগে। চলতি বছর আমি ২০ বিঘা জমিতে সূর্যমুখী ফলের আবাদ করেছি।
তিনি আরও বলেন, প্রতি বিঘা জমিতে ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা খরচ করে মাত্র একশ দিনেই ২৫০ কেজি বীজ পাওয়ার আশা করছি।। হানিফ সরকারের ফলন দেখে অন্য কৃষকেরাও এই ফুল চাষে আগ্রহের কথা জানান।
কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, দিন দিন সিরাজগঞ্জে সূর্যমুখীর আবাদ বাড়ছে। এ জন্য কৃষকদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি প্রণোদনা ও নানা পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। ফলন ভালো হওয়ায় এই ফুল থেকে উৎকৃষ্ট মানের তেল বীজ পাওয়া যায়।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার সাদাত বলেন, সূর্যমুখী ফুলের বীজ থেকে উৎপাদিত তেল স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারী। সেই সঙ্গে এই তেল বিভিন্ন অসুখেরও প্রতিষেধক হিসেবেও কাজ করে।
তেলের ঘাটতি পূরণে সূর্যমুখী বীজের উৎপাদন বাড়াতে জেলার ৯ উপজেলার ১২০ জন কৃষককে বীজ দিয়ে সহযোগিতা করেছে কৃষি বিভাগ। সয়াবিন তেলের ওপর নির্ভরতা কমাতে সূর্যমুখী ফুলসহ তেল জাতীয় ফসলের উৎপাদন বাড়াতে সরকার থেকে নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: তোরণ সরাতে চিঠিকেও আমলে নিচ্ছেন না এমপি
সূর্যমুখী ফুলের চাষ বাড়াতে কৃষকদেরকে বীজ ও সার সহায়তার পাশাপাশি কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে ফলন বৃদ্ধি পেতে সব ধরনের সহায়তার করা হচ্ছে। চলতি বছর তেল বীজ কৃষি প্রণোদনার আওতায় সদর উপজেলার ৩০০ বিঘা জমিতে সূর্যমুখী চাষ করা হয়েছে।
একাত্তর/এসি