বিভিন্ন দিবসে জনগণকে শুভেচ্ছা জানাতে ফুটপাত ও সড়ক ভেঙে লোহা দিয়ে স্থায়ী তোরণ নির্মাণ করেছেন সিরাজগঞ্জের বেলকুচি-চৌহালী নির্বাচনী এলাকার এমপি আব্দুল মোমিন মণ্ডল। কিন্তু জনগণকে শুভেচ্ছা জানানোর সেই তোরণ জনগণের অসুবিধার অভিযোগে অপসারণ করতে এমপিকে সড়ক ও জনপথ বিভাগ চিঠি দিলেও চার বছরেও তিনি তা সরান নাই। সওজের চিঠিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে লোহার মতোই দাঁড়িয়ে আছে লোহার তৈরি তোরণগুলো। ভোগান্তিতে সেই জনগণই।
এনায়েতপুর ইসলামীয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের পাশের সড়কে, আজগড়া মহিউস সুন্নাহ মাদরাসার পাশে, মেঘুল্লা, কামারপাড়া, বেলকুচি পৌরসভার সামনে, মুকন্দগাঁতী, চালা, সুবর্ণসাড়া, আমবাড়িয়া ও সমেশপুর সড়কে নির্মিত ১০টি তোরণে সংসদ সদস্য মমিন মন্ডলের ঈদ শুভেচ্ছার দেখা গেছে। এর মধ্যে আটটি তোরণ করা হয়েছে ঢালাই করে লোহার পিলার দিয়ে স্থায়ীভাবে। বাকি দুইটি অস্থায়ীভাবে গড়া হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, সড়কে ফুটপাত ও সড়ক ভেঙে এসব স্থায়ী তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। এদিকে বেলকুচি পৌরসভার সীমানায় চারটি তোরণ থাকায় পৌর কর্তৃপক্ষ প্রথমবারের মতো তোরণ অপসারণ করতে চিঠি ইস্যু করেছে। বাকি চারটি তোরণ অপসারণের ব্যবস্থা নিতেও সড়ক ও জনপথ বিভাগকে আহবান করা হয়েছে।
সরেজমিন, সিরাজগঞ্জের তাঁত শিল্প সমৃদ্ধ চারটি থানার মানুষের যোগাযোগের অন্যতম হচ্ছে সয়দাবাদ-এনায়েতপুর সাড়ে ১৯ কিলোমিটার সড়ক। যা সিরাজগঞ্জ শহর ও ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র রাস্তা। তাছাড়া এই সড়ক দিয়েই খাজা ইউনুস আলী মেডিক্যাল কলেজ ও মাজার শরীফে যেতে হয়।
বর্তমানে জনবহুল এই এলাকার ব্যস্ততম সড়কে নিয়ম না মেনেই সড়কের গাইডওয়াল ও এর পাশের বাইলেন রাস্তাটি দখল করে লোহার পিলার দিয়ে তৈরি করা হয়েছে আটটি বিশাল তোরণ। যা পোক্ত করতে রাস্তার গাইড ওয়াল ও পাশের বাইলেন রাস্তাটি গভীর করে খুঁড়ে সিমেন্ট-পাথর দিয়ে ঢালাই দেওয়া হয়েছে।
এতে রাস্তার পূর্ব পাশের ফুটপাত ও পশ্চিম পাশের বাইলেন রাস্তার মাঝখান পুরোপুরি দখল হয়ে গেছে। ঢালাইয়ের চারপাশের ফাঁকা অংশ দিয়ে বৃষ্টির পানি চুইয়ে রাস্তার ক্ষতি হচ্ছে। কোথাও কোথাও রাস্তার গাইড ওয়ালের মাটি সড়ে রাস্তার ক্ষতি হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, এই সড়কে দীর্ঘ চার বছর ধরে এমপি মোমিন মণ্ডলের তোরণ রয়েছে। বছরের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে তিনি ব্যানার ফেস্টুন লাগান। রাস্তা ঘেঁষে গাইডওয়ালের ওপরে এই স্থায়ী তোরণের কারণে রাস্তার একপাশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি অপর পাশের বাইপাস রাস্তা কেটে তোরণ নির্মাণ করায় যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছে।

মোকন্দগাতীর বাসিন্দা আরাফাত বলেন, অনেক সময় এই রাস্তায় গাড়ি চলাচলের সময় তোরণের পিলারের সঙ্গে গাড়ি ধাক্কা লাগার উপক্রম হয়। কখনও কখনও ছোটখাটো দুর্ঘটনাও ঘটে।
ট্রাক চালক আব্দুল মোতালেব জানান, অনেক সময় অন্য গাড়ির কারণে গাড়ি রাস্তা থেকে পাশে নামাতে হয়। কিন্তু পিলার থাকার কারণে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থেকেই যায়।
এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রুহুল আমিন সোহাগ জানান, ব্যস্ত এই সড়কটিতে প্রতিদিন হাজার হাজার বাস ও ট্রাক চলাচল করে। রাস্তা খুঁড়ে তোরণ নির্মাণ করায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া মূল রাস্তার সঙ্গে গাইডওয়াল খুঁড়ে তোরণের পিলার করায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এদিকে এই সড়কের বেলকুচি পৌর এরিয়ার মধ্যে থাকা চারটি পিলার সরানোর জন্য পৌর সভার পক্ষ থেকে চিঠি ইস্যু করা হয়েছে বলে জানান বেলকুচি পৌর মেয়র সাজ্জাদুল হক রেজা।
তিনি বলেন, পৌরবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে এমপির এই তোরণ অপসারণের জন্য তাকে নোটিশ করা হয়েছে। এব্যাপারে এমপি তোরণ অপসারণের ব্যবস্থা না নিলে পৌর কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবে।
তবে এ ব্যাপারে বেলকুচি-চৌহালী আসনের সংসদ সদস্য কিছু না বললেও তার এপিএস ও চৌহালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি তাজ উদ্দিন বলেন, এর আগে বাঁশ দিয়ে তোরণ তৈরি করে শুভেচ্ছা দেওয়া হয়েছিল। এখন লোহা দিয়ে পাকাপোক্ত করে দেয়া হয়েছে। এতে সমস্যার কী আছে!
আরও পড়ুন: গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি চাইলেন বিদেশি বন্ধুরা
এদিকে এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দিদারুল আলম তরফদার জানান, এরই মধ্যে এ সব তোরণ দেখার জন্য লোক পাঠানো হয়েছে। তোরণগুলো কারা বানিয়েছে তাদের পরিচয় মেলেনি। তবে সিরাজগঞ্জে সায়দাবাদ এনায়েতপুর সড়কের স্থায়ী তোরণ স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল মমিন মণ্ডলের করা। এ মাসেই সকল তোরণ ভাঙার জন্য চিঠি ইস্যু করা হবে।
তিনি আরো বলেন, এর আগে এই সড়কে তোরণ অপসারণের জন্য ২০১৯ সালে চিঠি ইস্যু করা হয়েছিলো। যদিও এর পরে আর কোনো কার্যক্রম করা হয়নি।
একাত্তর/এসি
