নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে দেশের একমাত্র জামদানি পল্লী। বংশ পরম্পরায় ঐতিহ্যবাহী পোশাক শিল্পের শিল্পীরা তৈরি হয় এখানেই। পরিবারের অনানুষ্ঠানিক শিক্ষায় গড়ে ওঠেন তাঁত শিল্পীরা। ভিন্ন ধরণের শাড়ি তৈরিতে আংশিক বা পুরোপুরি যন্ত্রের ব্যবহার শুরু হলেও জামদানি তৈরি হয় তাঁতে।
এবার ঈদকে সামনে রেখে জামদানি পল্লী বেশ জমজমাট। বর্তমান বাজারে জামদানি শাড়ির চাহিদার পাশাপাশি সালোয়ার কামিজ ও পাঞ্জাবির চাহিদাও বেড়েছে বেশ। আর এই চাহিদা মেটাতে শেষ সময়ে দিন-রাত কাজ করে চলেছেন তাঁত শিল্পীরা।
জানা যায়, জামদানির উৎপত্তি নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জের তারাব পৌরসভার নোয়াপাড়া গ্রামে। তবে জামদানি পল্লী এখন বিস্তৃত হয়েছে জেলার অন্য উপজেলাতেও। জামদানি বলতেই শাড়ির যে প্রচলিত ধারণা ছিল, এখন তার পাশাপাশি সালোয়ার কামিজ ও ছেলেদের জন্য পাঞ্জাবিও তৈরি করা হচ্ছে। যার চাহিদাও রয়েছে বাজারে।
সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদকে সামনে রেখে তাদের বিক্রি-বাট্টা বেশ ভালো। দুই হাজার থেকে শুরু করে লাখ টাকার জামদানি শাড়ি তৈরি হয় এখানকার তাঁতগুলোতে। ক্রেতাদের সুবিধায় অনলাইনে সরাসরি তাঁত থেকে শাড়ি কেনার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
রূপগঞ্জের জামদানি বিসিক শিল্প নগরীর কর্মকর্তা বায়েজিদ হাসেন বলেন, এক সময় জামদানি শুধু সমাজের এলিট শ্রেণি মানুষের পণ্য ছিল। কিন্তু এখন জামদানি সবাই পড়ে। দিন দিন নারীদের কাছে জামদানি চাহিদা বাড়ছে। শুধু রূপগঞ্জে জামদানি শিল্প নগরীতে ঈদুল ফিতরে প্রায় ২০ থেকে ৩০ কোটি টাকার জামদানি বিক্রি হয়।
একাত্তর/এসি