গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরণের বিরুদ্ধে ৬০০ কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সেসব অভিযোগ বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য নিচ্ছে দুদক।
ভারপ্রাপ্ত মেয়র কিরনের দুর্নীতির অভিযোগের সত্যতা মিললে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার জহুরুল হক।
২০২১ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তির দায়ে গাজীপুর সিটি মেয়র জাহাঙ্গীর আলম বরখাস্ত হলে কিরন ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। যদিও এনিয়ে কথা উঠেছিলো।
ভারপ্রাপ্ত মেয়র পদে বসে মাত্র দেড় বছরে দুর্নীতির মাধ্যমে ৬০০ কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের খবর আসে গণমাধ্যমে। ভালুকায় ২০০ বিঘা জমির উপর কারখানা নির্মাণ, অর্পিত সম্পত্তি দখলসহ দুর্নীতির বেশ কিছু অভিযোগ উঠে আসে গণমাধ্যমের এসব প্রতিবেদনে।
এসবের মধ্যেই গেলো ২৮ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরের ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। চার মাসের মধ্যে অনুসন্ধান শেষ করে প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে বলা হয়।
কিরণের নানা দুর্নীতির এসব অভিযোগ এরইমধ্যে সরকারের বিভিন্ন সংস্থাকে দেয়া হয়েছে। অভিযোগ এসেছে দুদকেও। তবে এখনো তার বিষয়ে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়নি কমিশন।
দুদক কমিশনার জানান, প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্যে কিরণের বিষয়ে দুর্নীতির অভিযোগের সত্যতা মিললেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে দুদক।
তিনি আরো জানান, অর্থ আত্মসাতসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে বরখাস্ত হওয়া মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলছে দুদকে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্বৈরশাসক এরশাদের জাতীয় পার্টিতে যোগদানের মাধ্যমে রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয় আসাদুর রহমান কিরনের।
এরপর গাজীপুরের হাসান উদ্দিন সরকার এবং আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলা ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি নুরুল ইসলাম সরকারের ছত্রছায়ায় টঙ্গীতে রাজনৈতিক জীবন শুরু কিরনের।
আরও পড়ুন: যেসব কারণে সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা গেলো না
পর্যায়ক্রমে তিনি টঙ্গী পৌরসভার কমিশনার এবং এর ২০১৩ সালে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। কমিশনার নির্বাচিত হয়েই কিরন দুর্নীতিতে জড়িয়ে পরেন।
২০১৩ সালে গাজীপুর সিটির প্রথম নির্বাচিত মেয়র অধ্যাপক মান্নান সাময়িক বরখাস্ত হলে কিরন নানা কায়দায় প্যানেল মেয়র এবং ভারপ্রাপ্ত মেয়র নির্বাচিত হন।
একাত্তর/আরএ