নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ঈদের কেনাকাটা করে দেবার কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে গিয়ে মৌসুমি আক্তার (২৫) নামের এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী রাসেল মিয়ার বিরুদ্ধে।
বুধবার রাতে রূপগঞ্জের পার্শ্ববর্তী সোনারগাঁও থানাধীন শিংলাবো এলাকা থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত গৃহবধূ মৌসুমি আক্তার রূপগঞ্জে গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া এলাকার করিম হায়দারের মেয়ে।
নিহতের পরিবারের বরাতে ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সাত বছর আগে পারিবারিকভাবে একই এলাকার নেওয়াজ আলীর ছেলে রাসেল মিয়ার সাথে বিয়ে হয় মৌসুমি আক্তারের। বর্তমানে তাদের ৬ বছরের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।
এদিকে বিয়ের কয়েক বছর পর থেকে রাসেল অপর এক নারীর সাথে পরকীয়ায় আসক্ত হয়ে পড়েন। বিষয়টি কয়েকমাস পূর্বে জানতে পেরে মৌসুমি তার স্বামীকে বাধা দেয়। এ নিয়ে প্রায়শেই তাদের মধ্যে বিতণ্ডা চলতো।
চারমাস আগে নির্যাতন সইতে না পেরে মৌসুমি আক্তার তার সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়ি চলে যান। গত ১৭ দিন আগে রাসেলের মিয়ার পরিবারের লোকজন এসে তাকে শ্বশুরবাড়িতে ফিরিয়ে নেন।
পরে বুধবার রাত ৮টার দিকে মৌসুমিকে ঈদের কাপড় কিনে দেওয়ার কথা বলে গাউছিয়া মার্কেটে নিয়ে যায় অভিযুক্ত।
রাত ১০টার দিকে রাসেলের বাড়ি থেকে মৌসুমির বাবার বাড়িতে খবর পাঠানো হয় রাসেলকে ডাকাতরা কুপিয়েছে।
কিছুক্ষণ বাদে সোনারগাঁও থানাধীন শিংলাবো এলাকায় এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের পাশে নির্জন জায়গা থেকে স্থানীয়রা গৃহবধূ মৌসুমির মরদেহ উদ্ধার করেন। তখন রাসেলকে আহত অবস্থায় স্থানীয় ইউএস বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আরও পড়ুন: রাজবাড়ীতে ট্রাকচাপায় পথচারীর মৃত্যু
খবর পেয়ে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ ও সোনারগাঁও থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
প্রাথমিকভাবে গলায় দড়ি অথবা ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে করে মৌসুমিকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারনা করা হচ্ছে।
একাত্তর/আরএ