পটুয়াখালীর দুমকিতে সকালে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষে বৈদ্যুতিক পাখা ভেঙে পড়ছে, খসে পড়েছে পুরো কক্ষের দেয়ালের পলেস্তরা। এতে আহত হয়েছেন শিক্ষক মোহাম্মদ দলিল উদ্দিন।
কক্ষে শিক্ষার্থী থাকলেও তারা অক্ষত রয়েছেন, তবে তাদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বুধবার সকাল ৯টা ২০ মিনিটে দুমকি উপজেলার ৫৩নং পশ্চিম জলিসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস শুরুর আগ মুহূর্তে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ভবনটি অনেক পুরানো ও জরাজীর্ণ হওয়ায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষক দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিচ্ছেন। তিনি হাতে ও কোমরে চোট পেয়েছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক হোসনে আরা বেগম। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন চুমকি উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কাজী মনিরুজ্জামান রিপন।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক হোসনে আরা বেগম জানান, ঈদ ছুটির পর আজ ছিল স্কুল খোলার তারিখ। আকস্মিকভাবে প্রথম শ্রেণীর কক্ষের গোটা ভীম জুড়ে পলেস্টার খসে পড়ে। এ সময় বৈদ্যুতিক পাখাও ভেঙে পড়ে। তবে এ সময় বিদ্যুৎ ছিলো না। কক্ষে উপস্থিত শিক্ষক মোহাম্মদ জলিল উদ্দিন পলেস্টারের টুকরো আঘাতে হাতে ও কোমরে ব্যথা পান। শিক্ষার্থী শিশুরা অক্ষত থাকলেও তাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রধান শিক্ষক আরো জানান, স্কুলটি স্থাপিত হয় ১৯৭৫ সনে। একতলা ভবনটি নির্মিত হয় ১৯৯৪ সনে। ভবনটি জরাজীর্ণ হওয়ায় নতুন ভবনের জন্য ২০১৯ সালে আবেদন করা হয়। দুই বছর আগে নতুন ভবন বরাদ্দ হয় এবং নির্মাণ কাজ শুরু হলেও বিভিন্ন জটিলতার কারণে কাজ স্থগিত হয়ে যায়। এর ফলে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই পাঠদান করতে হচ্ছে। আজকের দুর্ঘটনার বিষয়টি পটুয়াখালী জেলা প্রাথমিক শিক্ষক অফিসার, দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে অবহিত করা হয়েছে, খবর পেয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক অফিসার ঘটনাস্থলে এসেছেন।
এব্যাপারে দুমকি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক অফিসার কাজী মনিরুজ্জামান রিপন জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসেছি। বর্তমানে বিদ্যালয় ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী প্রতিয়মান হয়েছে, এ ব্যাপারে জেলা অফিসে প্রতিবেদন দেয়া হবে এবং শীঘ্রই ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হবে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোল্লা বখতিয়ার উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে পাঠানো হয়েছে। তার দেয়া প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরো জানান, ইতোমধ্যে ওই স্কুলের জন্য নতুন ভবন বরাদ্দ পাওয়া গেছে কিন্তু জমি জটিলতার কারণে কাজ বন্ধ রয়েছে।
একাত্তর/এআর