কুমিল্লার লাকসামে শিশু পাচারকারী চক্রের কবল থেকে ছয় মাদ্রাসা ছাত্রকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসময় গ্রেপ্তার করা হয়েছে দুই পাচারকারীকে।
এ ঘটনায় রোববার লাকসাম থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: আবদুল্লাহ আল মাহফুজ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় শনিবার দুপুরে লাকসাম জংশন এলাকার আজমিরি হোটেলের সামনে থেকে মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য মো: মোবারক হোসেন (৫০) ও ইমন খান জিলন রায়হানকে (২৭) গ্রেপ্তার করা হয়।
এসময় তাদের কবল থেকে চাঁদপুর ওয়ারলেস বাজারের ফজলুল উলূম হাফেজিয়া মাদ্রাসার ছাত্র মো: আবু সাঈদ (১৩), নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি আমলনগর এলাকার মেহেরাজ হোসেন (১৪), ঢাকা মুগদার মারকাজুল কওমী মাদ্রাসার ছাত্র মো: শরিফুল ইসলাম (১২), চট্টগ্রামের অলংকার মোড়ের দারুস সুন্নাহ আল ইসলামিয়া মাদ্রাসার ছাত্র মো: ইমাম হাসান (১৫), চৌদ্দগ্রামের গুণবতী এলাকার জামিয়া ফারুকিয়া এমদাদুল উলূম মাদ্রাসার ছাত্র মো: তামিম (১৫) ও চট্টগ্রামের হাটহাজারী এলাকার মো: ফাহিমকে (১৫) উদ্ধার করা হয়। মানব পাচারকারীরা বিভিন্ন প্রলোভন ও কৌশলের আশ্রয় নিয়ে এ কোমলমতি শিশুদের নিয়ে আসে বলে জানান এ কর্মকর্তা।
স্থানীয় হুমায়ুন কবির মানিক জানান, মোবারক হোসেন ও ইমন খানসহ মানব পাচারকারী চক্রের অন্যান্য সদস্যরা পঞ্চগড়, নোয়াখালী, চাঁদপুর, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার মাদরাসা টার্গেট করে কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের প্রলুব্ধ করে নিজেদের কব্জায় নেয়। পরে তাদেরকে বিভিন্ন স্থানে প্রেরণসহ শারীরিক ও মানসিক নিপীড়নসহ ভয়ভীতি দেখিয়ে নিজেদের কার্যসিদ্ধি করে।
আরও পড়ুন: মোখার তাণ্ডবে তছনছ মিয়ানমার
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক মো: হাবিবুর রহমান জানান, উদ্ধারকৃত আবু সাঈদের পিতা মো: শাহীন খান বাদি হয়ে চক্রের আটককৃত দুই সদস্যসহ অজ্ঞাত আরও এক জনকে আসামি করে মানবপাচার দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন। আসামিদের কুমিল্লা আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
একাত্তর/আরবিএস