শিশুর মৃত্যুতে মাকে জিজ্ঞাসাবাদ, পালক পুত্রকে খুঁজছে পুলিশ

কুমিল্লা সদর উপজেলার ৩ নম্বর দুর্গাপুর ইউনিয়নের খেতাসার এলাকা থেকে ৯ বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই পরিবারের পালক পুত্র রাফিকে খুঁজছে পুলিশ। 

শনিবার বিকেল ৫টার দিকে কু‌মিল্লা সদ‌রের খেতাসার এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট ফাঁড়ির পুলিশ। 

নিহত শিশু আবদুল করিমের বাবা হুমায়ূন কবির প্রবাসে থাকেন। মায়ের সাথে খেতাসার এলাকার ভাড়া বাসায় থাকতো শিশু করিম। বিকেলে বাসার খাটের নিচে করিমের মরদেহ দেখতে পান তার মা। তবে কি কারণে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে তা এখনও জানা যায়নি। এ বিষয়ে শিশুটির মা ইতি আক্তারকে ফাঁড়িতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

কুমিল্লা কোতয়ালি থানাধীন ক্যান্টনমেন্ট ফাঁড়ির ইনচার্জ আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে শনিবার বিকেলে খেতাসার এলাকার ভাড়া বাসা থেকে আমরা করিমের মরদেহ উদ্ধার করে ফাঁড়িতে নিয়ে আসি। এ বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান ও তথ্য জানতে করিমের মা ইতিকে ফাঁড়িতে আনা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের গলায় দাগ রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হবে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। এখনও কাউকে আটক করা হয়নি। 

নিহতের প‌রিবার ও স্থানীয়রা জানায়, কয়েকমাস আগে ইতি আক্তারের বোনের ছেলে তার খালার বাসায় রাফি (১৭) নামের এক অনাথ কিশোরকে নিয়ে আসে। পিতামাতা ও ঠিকানাহীন ওই কিশোরকে সন্তানের মতই লালনপালন করতে থাকেন প্রবাসীর স্ত্রী। পালকপুত্র রাফি প্রবাসীর স্ত্রীকে মা বলেই ডাকতো বলেও জানা যায়। ঘটনার দিন দুপুরে পারিবারিক কাজে ছেলে করিম ও রাফিকে বাসায় রেখে বাইরে যান তিনি। বিকেলে বাড়িতে এসে ছেলে করিমকে বাসায় না দেখে রাফিকে বলেন করিমকে খুঁজে আনার জন্য। রাফি করিমকে খোঁজার জন্য বেরিয়ে যায়, একপর্যায়ে ঘরের খাটের নিচে করিমের মরদেহ দেখতে পান ইতি আক্তার। ছেলের মরদেহ দেখে চিৎকার শুরু করলে প্রতিবেশীরা ছুটে আসে। এ ঘটনার পর থেকেই পালকপুত্র রাফি পলাতক রয়েছে।       

আরও পড়ুন: পাচারকারীদের কবল থেকে ছয় মাদ্রাসাছাত্র উদ্ধার, গ্রেপ্তার দুই     

ইতি আক্তার জানান, পলাতক রাফির কিছু ছবি তার ফোনে ছিল। কোনো এক সময় তার অজ্ঞাতেই মোবাইল থেকে ছবিগুলো ডিলিট করা হয়েছে। এলাকাবাসী ও পুলিশের ধারণা পালকপুত্র রাফিকে আটক করা গেলে ঘটনার আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে।  

ক্যান্টনমেন্ট ফাঁড়ির ইনচার্জ আবদুল্লাহ আল মামুন ব‌লেন, পলাতক রাফিকে গ্রেপ্তারের অভিযান অবহ‌্যত রে‌খে‌ছে পু‌লিশ।


একাত্তর/আরবিএস