নারায়ণগঞ্জের রুপগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করছে ঘোড়াশাল নৌ-বন্দর কর্তৃপক্ষ।
রুপগঞ্জের মুড়াপাড়া থেকে কাঞ্চন ব্রিজ পর্যন্ত নদীর পাড়ে এ উচ্ছেদ অভিযান চলছে। এখানে নদীর পাড়ের দু’শরও বেশি অবৈধ স্থাপনা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে অবৈধ স্থাপনাগুলো গুড়িয়ে দেয়া হবে বলে জানায় ঘোড়াশাল নৌ-বন্দর কর্তৃপক্ষ।
শিল্প প্রতিষ্ঠানের পণ্য ওঠানামার বাণিজ্য হাব হিসাবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী। প্রতিদিন প্রায় শত শত কার্গো চলাচল করে এই নদীতে। সরকারের হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্বও আদায় হয় এখান থেকে। কিন্তু ভূমিদস্যু, শিল্প প্রতিষ্ঠানের কবলে দখল হচ্ছে শীতলক্ষ্যা।
গুরুত্বপূর্ণ এই নদীটিকে বাঁচাতে নির্দেশনা দেয় হাইকোর্ট। ২০১৯ সালে আদালতের রায় বাস্তবায়নে শুরু হয় উচ্ছেদ অভিযান। নদীর পাড়ে বসানো হয় সীমানা পিলার। তারপরও সরেনি দখলদাররা।
রুপগঞ্জের মুড়াপাড়া ঘাট থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে ঘোড়াশাল নৌ-বন্দর। মুড়াপাড়া থেকে কাঞ্চন ব্রিজ পর্যন্ত দু’শরও অধিক অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করেছে কর্তৃপক্ষ। বালু বাণিজ্যও গড়ে তোলা হয়েছে নদীর পাড়ে। একতলা দোতলা ভবনসহ নদীর জায়গা দখল করে টিনের ঘর করা হয়েছে।
ঘোড়াশাল নৌ-বন্দরের উপ-পরিচালক মাসুদ পারভেজ জানান, ঘোড়াশাল নদীবন্দর কর্তৃপক্ষ কিছুদিন আগেও উচ্ছেদ করেছে নদীর জায়গার অবৈধ স্থাপনা। কিন্তু ভূমিদস্যুরা আবারও দখল করার অপচেষ্টা করছে। সীমানা পিলার দেওয়ার পরও অনেকেই তা মানছে না।
তিনি আরও জানান, নদীর পাড় থেকে প্রায় এক-দু’শ ফুট পর্যন্ত দখল করে ফেলেছে ভূমিদস্যুরা। এতে নদী সরু হয়ে গেছে। নৌ-চলাচলেও সমস্যা হয় এতে। প্রায় দু’শ অবৈধ স্থাপনা রয়েছে। আরও পাঁচদিন অভিযান পরিচালনা করে সব স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়া হবে। নদীর পাড়ে থাকা বালু মহাল নিলামে বিক্রি করে দেয়া হবে।
আরও পড়ুন: মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে ধাক্কা, দুই যুবক নিহত
তিনি বলেন, নদীর সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে সিএস ম্যাপ অনুসারে। কাজেই এখানে কারও ব্যক্তি মালিকানা জায়গা নেই। ভূমিদস্যুরা জায়গা রক্ষা করার জন্য সুযোগ বুঝে জমি দাবি করে।
একাত্তর/জো