পিনাক-৬ লঞ্চ ডুবির ৯ বছর

পিনাক-৬ লঞ্চডুবির ৯ বছর পূর্ণ হলো শুক্রবার। ভয়াবহ নৌ দুর্ঘটনায় সেদিন ৪৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ২৮ জনের পরিচয় মিললেও বাকিদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ রয়েছেন ৬৪ জন। দুর্ঘটনার কথা ভেবে এখনও আতঙ্কে কেঁপে ওঠেন নিহতের স্বজনরা।

২০১৪ সালের ৪ আগস্ট আড়াইশ’র বেশি যাত্রী নিয়ে পদ্মায় ডুবে যায় পিনাক-৬ নামের লঞ্চটি। সেই লঞ্চেই ঢাকায় ফিরছিল শিবচরের গুয়াতলা এলাকার নুরুল হক হাওলাদারের মেডিকেল পড়ুয়া মেয়ে নুসরাত জাহান হীরা, আরেক মেয়ে ফাতেমাতুজ জোহরা স্বর্ণা ও ভাগ্নি জান্নাতুল নাঈম। কিন্তু ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় তিনজনেরই মৃত্যু হয়।

সেই দুর্ঘটনার কথা মনে করে আজও শিউরে ওঠেন মেয়ে হারানো নুরুল হক হাওলাদার।

নিহতের বাবা ও মামা বলেন, আগস্ট মাস আসলেই আমাদের মেয়ে হারানোর শোক প্রবল হয়।

দুর্ঘটনায় সেদিন ৪৯ জনের মৃতদেহ বিভিন্ন জায়গা থেকে উদ্ধার করে আনা হয় শিবচরের পাঁচ্চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে। নিহতদের মধ্যে সেদিন শুধু ২৮ জনের পরিচয় পাওয়া যায়। বাকিদের শনাক্তের জন্য নেয়া হয় ডিএনএ নমুনা। আট বছরেও কেউ শনাক্ত করতে আসেনি মরদেহগুলো।

এ দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারকে প্রয়োজনে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসক। সেদিনের কথা মনে করে তিনি আরও বলেন, পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন হওয়ায় এ ধরনের দুর্ঘটনা আর ঘটবে না।

আরও পড়ুন: ছাগলে গাছের পাতা খাওয়াকে কেন্দ্র করে কৃষককে হত্যা

মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মারুফুর রশিদ খান বলছেন, পদ্মাসেতু হওয়ার পর এখন যাত্রীরা সড়কেই বেশি যাতায়াত করছেন। ফলে লঞ্চে আর এ ধরনের দুর্ঘটনার সম্ভাবনা নেই।

দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরাও বলছেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় আর কোনো নৌ-দুর্ঘটনার আতঙ্গে নেই তারা।


একাত্তর/আরএ