বাসচালকের মুক্তির দাবিতে ধর্মঘট, যাত্রীদের ভোগান্তি

নওগাঁয় এক বাসচালকের মুক্তির দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো জেলার অভ্যান্তরীণ সব রুটে বাস ধর্মঘট চলছে। কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই মঙ্গলবার সকাল থেকে জেলার অভ্যন্তরীণ রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয় জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন। এর ফলে বিপাকে পড়তে হয়েছে যাত্রীদের।

জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন ও বাস মালিক সমিতি সূত্রে জানা যায়, গত ১ জুলাই নওগাঁ-সাপাহার রুটে চলাচলকারী একটি দ্রুতগামী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নওগাঁ শহরের জলিল পার্ক এলাকায় দুটি মাইক্রোবাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। 

এতে দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও মাইক্রোবাসে থাকা যাত্রী ছাড়াও পার্কে ঘুরতে আসা বেশ কয়েকজন দর্শনার্থীসহ অন্তত ২৬ জন আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে একজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়।

ওই মামলায় বাসের চালক ইমরান হোসেন গত ১৭ জুলাই আদালতে হাজির হয়ে জামিনের জন্য আবেদন করলে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠায়। রোববার পরবর্তী শুনানিতেও আদালত ওই চালকের জামিন নামঞ্জুর করেন। 

এতে ইমরানসহ গ্রেপ্তার সকল শ্রমিকের মুক্তির দাবিতে মঙ্গলবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য জেলার অভ্যন্তরীণ রুটে বাস ধর্মঘটের ডাক দেয় সাধারণ শ্রমিকেরা।

বাসচালক ইমরানসহ সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন দুর্ঘটনার মামলায় নওগাঁ জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাতজন শ্রমিক বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

বাস ধর্মঘটের কারনে অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী বাস না পেয়ে গন্তব্যে যেতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের। বাস না পেয়ে অনেককে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকে করে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে। 

এতে বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের। ধর্মঘটকে পুঁজি করে অটো ও ইজিবাইকের চালকেরা অতিরিক্ত টাকা লুটে নিচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের। 

নওগাঁ জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন কিংবা বাস মালিক সমিতির পক্ষ থেকে এই ধর্মঘট ডাকা হয়নি। ধর্মঘট ডেকেছেন সাধারণ শ্রমিকেরা। সাধারণ শ্রমিকেরা জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন ও বাস মালিক সমিতির বর্তমান কমিটির নেতাদের কাছে গ্রেপ্তারি হয়রানি বন্ধে পুলিশসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে দেন দরবার করতে বললেও তারা সেটা করেনি। বাধ্য হয়ে নিজেদের দাবি আদায়ে শ্রমিকেরা ধর্মঘট ডেকেছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শ্রমিকদের এই ধর্মঘট চলবে।’ 

নওগাঁ জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সম্প্রতি আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে এক চালককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাস চালক ও হেল্পাররা ওই বাসচালকসহ গ্রেপ্তার অন্যান্য পরিবহন শ্রমিকদের মুক্তির দাবিতে কর্মবিরতি পালনের ডাক দিয়েছে। এ অবস্থায় বাধ্য হয়ে মালিকেরা বাস রাস্তায় নামাতে পারছে না। এখন বাস কবে চলবে এটা শ্রমিকদের ওপর নির্ভর করছে।’

আরও পড়ুন: মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রে শ্রমিক ধর্মঘট

নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়সাল বিন আহসান বলেন, গত ১ জুলাই সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনায় এক ভুক্তভোগী বাদী থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় জামিন নিতে গিয়ে অভিযুক্ত বাস চালককে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। ওই চালকের মুক্তি দেওয়ার বিষয়ে পুলিশের কিছু করার নেই। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ওই চালককে মুক্তি নিতে হবে। মামলাটির সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তা ওই দুর্ঘটনার মামলার বিষয়টি তদন্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়ার বিষয়ে কাজ করছে। 

নওগাঁ জেলা প্রশাসক গোলাম মওলা বলেন, বিষয়টি সমাধানের জন্যে তাদের সাথে আমাদের আলোচনা চলছে।


একাত্তর/এসজে