মিঠা পানি সংরক্ষণের জন্য খাল খননে পাল্টে গেছে পটুয়াখালীর কলাপাড়ার শত শত কৃষকের ভাগ্য। গোটা নীলগঞ্জ ইউনিয়ন জুড়েই এখন গ্রীষ্মকালীন সবজির সমারোহ।
পাখিমারা, কুমিরমারা ও যুগীর খালের দুপাশের দশটি গ্রামে এখন এক ইঞ্চি জায়গাও অনাবাদী নেই। একই অবস্থা উপজেলার অন্য গ্রামগুলোর। কৃষকরা বলছেন, মিঠাপানির জন্য কৃষক আন্দোলনের সুফল পাচ্ছে প্রতিটি গ্রামের কৃষক।
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়ন। কৃষিতে সমৃদ্ধ এই এলাকার কৃষকরা আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত বীজ ও কৃষি বাজার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে অনেকটা সচেতন।
উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের অধিকাংশ পরিবার কৃষির ওপর নির্ভরশীল। তাই সারা বছর এই ইউনিয়নে উৎপাদিত হয় বিষমুক্ত নানা জাতের সবজি।
এখানকার কৃষকদের একজন জাকির গাজী। শুধু করলা চাষ করে স্বাবলম্বী তিনি। দূর-দূরান্তের ব্যবসায়ীরা তার বাগানের করলা কিনে ট্রাকভর্তি করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিয়ে যাচ্ছেন।
লবণাক্ত জমিতে কান্দি পদ্ধতিতে উচ্চ ফলনশীল জাতের করলা বীজ বপন করে ৪৫ দিনের মধ্যে ফলন ঘরে তোলে কৃষকরা। এক বিঘা জমিতে করলা চাষ করতে ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়।
করলা চাষি জাকির হোসেন বলেন, আজ থেকে আরও একমাস আগে পাখিমারা বাজার থেকে প্রতিদিন ২০ টনেরও বেশি করলা ও অন্যান্য সবজি দেশের বিভিন্ন বাজারে যাচ্ছে।
শুধু করল্লা নয়, বোম্বাই মরিচ চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন শতাধিক কৃষক। দেশে-বিদেশে চাহিদা থাকায় ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ব্যাপকভাবে চাষ হচ্ছে এই মরিচ।
কৃষকরা জানান, সরকার তিনটি খাল খননের মাধ্যমে মিঠা পানি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়ার ফলে তাদের বরবটি, লাউ, মিষ্টিকুমড়া থেকে শুরু করে সব ধরনের সবজির ফলন ভালো হচ্ছে।
আরও পড়ুন: রশি ছিঁড়ে দুই রঙ মিস্ত্রির মৃত্যু
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের নেতারা বলছেন, অগভীর খালগুলো পুনঃখনন করে মিষ্টি পানির আধার হিসেবে ব্যবহার করলে কৃষকরা আরও লাভবান হবে।
কলাপাড়ার সবজি উৎপাদনের ৭০ ভাগই এই নীলগঞ্জ উৎপাদন হচ্ছে। কৃষি বিভাগের হিসেবে কলাপাড়ার নীলগঞ্জে প্রায় চার হাজার একর কৃষি জমি রয়েছে।
একাত্তর/এসজে