কলাপাড়ায় ঝুঁকিতে আড়াই কিলোমিটার বাঁধ, আতঙ্কে ৩০ গ্রাম

পটুয়াখালীর কলাপাড়ার রাবনাবাদ, সোনাতলা ও টিয়াখালী নদীর ঢেউয়ের তোড়ে পাঁচটি ইউনিয়নের আড়াই কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। উপজেলা প্রশাসন কিংবা পানি উন্নয়ন  বোর্ড ভাঙা বাঁধ সংস্কারে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ না করায় আতঙ্কে আছেন ৩০ গ্রামের মানুষ।  

এদিকে, শুক্রবার অমাবস্যার জোয়ারের প্রভাবে নদী ও সাগরের পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় ভাঙা বেড়িবাঁধে নতুন করে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। 

রাবনাবাদ নদীর ঢেউয়ের তোড়ে গত এক সপ্তাহ ধরে দেবপুর বেড়িবাঁধের করমজাতলা অংশের ২৩৮ মিটার বাঁধ স্ল্যাবসহ ধ্বসে পড়েছে। প্রতিদিনই বাঁধের বিভিন্ন অংশ ভেঙ্গে পড়ছে। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন ধানখালী ও চম্পাপুর ইউনিয়নের ১০ গ্রামের মানুষ।

চম্পাপুর ইউপি চেয়ারম্যান বাবুল মৃধা জানান, দেবপুর বেড়িবাঁধের করমজাতলা অংশটি গত কয়েক বছর ধরেই ভাঙ্গা অবস্থা রয়েছে। এ বাঁধের দেবপুর অংশের কিছু এলাকা গত বছর মেরামত করা হলেও এই অংশটি থেকে গেছে অরক্ষিত।  

এ কারণে গত সপ্তাহে নিম্নচাপের প্রভাব শুরু হওয়ার পর থেকে বাঁধের বিভিন্ন অংশ ভেঙ্গে পড়ছে। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। কিন্তু এলাকার মানুষের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা কমেনি। বর্ষাকাল চলে গেলেও এখনও বাঁধ নির্মাণে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়নি। 

ধানখালী ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাদা পারভেজ টিনু জানান, এ বছর বর্ষা মৌসুম শুরুর পরই টিয়াখালী নদীর ভাঙ্গনে হাফেজ প্যাদা বাঁধের বিভিন্ন অংশ নদীতে ধ্বসে পড়েছে।  

মিঠাগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান মেজবাহ উদ্দিন খান দুলাল জানান, মিঠাগঞ্জ বেড়িবাঁধের ১০০ মিটার বাঁধ সোনাতলা নদীর স্রোতে স্ল্যাবসহ ধ্বসে পড়েছে।  এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন সাত গ্রামের মানুষ। পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলীসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এ ভাঙ্গা বাঁধ পরিদর্শন করে গেলেও এখনো কাজ শুরু হয়নি। 

একই অবস্থা কলাপাড়ার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের গইয়াতলা বেড়িবাঁধের। গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে এ বাঁধের প্রায় ৩০০ মিটার  নদী গর্ভে ভেঙ্গে পড়লেও, এই বেড়িবাঁধটির জরুরি সংস্কারে এখনো কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। কৃষিনির্ভর এই নীলগঞ্জের মানুষ ফসল হারানোর আশঙ্কায় এখন উদ্বিগ্ন রয়েছে।

আরও পড়ুন: ডিমের বাজারে স্বস্তি ফেরার আভাস

কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালীদ জানান, কলাপাড়ার ৩২০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের আড়াই কিলোমিটার বাঁধ চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। বিষয়টি তারা লিখিতভাবে জানানোর পর বরিশাল বিভাগীয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরজমিনে ঘুরে দেখেছেন। 

তিনি বলেন, এ ভাঙ্গা বাঁধগুলো জরুরি সংস্কারে প্রকল্প জমা দেওয়া হয়েছে। বর্ষা মৌসুম শেষে তারা কাজ শুরু করতে পারবেন বলে আশা করছেন। 


একাত্তর/এসজে