ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে চট্টগ্রাম বন্দরে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সতর্কতা সংকেত অ্যালার্ট-৩ জারি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার আবহাওয়া অধিদপ্তর চট্টগ্রাম ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলার পর এই সতর্কতা সংকেত জারি করা হয়।
বহির্নোঙরে অবস্থান করা মাদার ভেসেলগুলোকে সকাল থেকে গভীর সাগরে চলে যেতে বলা হয়েছে। এছাড়া জেটিতে অবস্থান করা জাহাজগুলোকে বিকেলে জোয়ারের সময় বন্দর চ্যানেল ছেড়ে যেতে বলা হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় হামুন মোকাবিলায় অংশীজনদের দুপুরে জরুরি বৈঠক করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বৈঠকের পর আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েল জানিয়েছেন, ঝড়ের প্রভাবে সাগর উত্তাল হয়ে পরায় সোমবার রাত থেকেই বহির্নোঙ্গরে পণ্য খালাস বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
সকাল থেকে জেটির অপারেশনও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে যে সব গাড়ি ইতিমধ্যে বন্দরের ভেতরে প্রবেশ করেছে তাদেরকে কন্টেইনার দিয়ে বের করে দেয়া হচ্ছে।
লাইটার জাহাজগুলোকে শাহ আমানত ব্রিজের ওপারে কর্ণফুলী নদীর উজানে অবস্থান করার নির্দেশনা দিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বিকেলের মধ্যে জেটিগুলো ফাঁকা হয়ে যাওয়ার পর যন্ত্রাংশগুলোকে নিরাপদ করার কাজ শুরু হবে।
ঝড় পরবর্তী যত দ্রুত সম্ভব বন্দরকে সচল করার প্রস্তুতিও আছে।
অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় হামুন বুধবার ভোররাত থেকে সকালের মধ্যে বরিশাল ও চট্টগ্রামের মাঝামাঝি হাতিয়ার ওপর দিয়ে আঘাত হানবে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর আভাস দিয়েছে।
ঝড়ের কেন্দ্রে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার। শক্তি সঞ্চয় করে এটি ধীরে ধীরে বাংলাদেশ উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে ঢাকাসহ দেশের ১৩টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঝড়-বৃষ্টি বয়ে যেতে পারে। এ অবস্থায় চট্টগ্রাম ও পায়রা বন্দরে ৭ নম্বর, কক্সবাজার ৬ ও মোংলা বন্দরে ৫ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।