চায়ের দোকানে করোনা রোগীদের আড্ডা!

জুনের শেষ সপ্তাহ থেকে বরগুনা জেলায় লাফিয়ে বাড়তে শুরু করে করোনা সংক্রমণের হার। এমন পরিস্থিতির মধ্যেও হাসপাতালে চিকিৎস্যাধীন করোনা রোগীদের দেখা গেছে হাসপাতালের বাইরে গিয়ে চায়ের দোকানে আড্ডা দিতে। এছাড়া করোনা আক্রান্ত রোগীদের দেখতে আসা দর্শনার্থীদের ভিড় লেগেই থাকে করোনা ইউনিটে। 

শনিবার (১০ জুলাই) সকালের আগের ২৪ ঘণ্টায় জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৫৩ জন। এ নিয়ে জেলায় মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো এক হাজার ৮০৪ জনে। মৃত্যু হয়েছে ৩৯ জনের। শনাক্তের হার প্রায় ৩০ শতাংশ। 

বরগুনার জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান একাত্তরকে বলেন, আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু মানুষকে সচেতন হতে হবে আরও। প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে দিনরাত। আমরা চেষ্টা করছি সব নিয়ন্ত্রনে রাখতে। করোনা রোগীরা বাহিরে আসাটা শুনে আমিও হতাশ হয়েছি। মানুষ নূন্যতম সচেতন না হলে আমরা কিভাবে করোনা মোকাবেলা করবো? 

তিনি আরও বলেন, আমি আজ বিকালে সিভিল সার্জন ও পুলিশ সুপারের সাথে জরুরি বৈঠক করবো। করোনা রোগীদের বাহিরে আসা বন্ধ করতে এবং দর্শনার্থীদের আসা-যাওয়া বন্ধ করতে আমরা কঠোর হবো।

করোনা আক্রান্ত হয়ে জেনারেল হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎস্যা নেয়া রোগী মো. মুসা  একাত্তরকে   বলেন, করোনা ইউনিটে ভয়াবহ পরিস্থিতি। আমি আসার পরে দেখেছি শুধু করোনা ইউনিটের রোগীদের জন্য হাসপাতালের ২য় তলা নির্ধারিত ছিলো। সেখানেই চিকিৎস্যা দেওয়া হতো। এখন রোগীর সংখ্যা বাড়ায় তৃতীয় তলায়ও রোগী রেখেছে কর্তৃপক্ষ। যে হারে প্রতিদিন রোগী আসছে তাতে এক সপ্তাহের মধ্যে হাসপাতালের সাত তলা ভবনের পুরোটাই করোনা রোগীদের জন্য দিয়ে দিতে হবে। 


বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তত্ববধায়ক ডাক্তার সোহরাব হোসেন একাত্তরকে  বলেন, হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে আছে ৫০টি বেড। এক সপ্তাহ আগেই রোগীতে পূর্ণ হয়েছে ওয়ার্ড। ফাঁকা জায়গাগুলো কিছু নতুন বেড তৈরি করে দেওয়া হয়েছিলো। তাতেও কাজ হয়নি। এখন মেঝেতেও বিছানা দেওয়া হচ্ছে। একদিকে চিকিৎসক সংকট অন্যদিকে নার্স সংকট। হাসপাতালে আইসিইইউ নেই। রোগীদের পরামর্শ দিলেও তারা শোনেন না। রোগীর স্বজনরাও বেপরোয়া।

আরও পড়ুন: নোয়াখালীতে লকডাউনেও বাড়ছে সংক্রমণ, ৩ জনের মৃত্যু

বরগুনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও প্রবীণ সাংবাদিক হাসানুর রহমান ঝন্টু একাত্তরকে বলেন, মানুষ অসচেতন। প্রশাসনের সাথে চোর-পুলিশ খেলা চলছে। শুধু প্রশাসন আর লকডাউন দিয়ে করোনা সংক্রমন বন্ধ করা যাবে না। অবশ্যই এসব কাজে জনপ্রতিনিধিদের এগিয়ে আসতে হবে। সরকার একা সামাল দিতে পারবে না। সেই পরিস্থিতিতে আমরা নেই।


একাত্তর/আরবিএস