নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাসেম ফুডস লিমিটেড কারখানার ৬ তলার আগুন নেভানোর পরে ক্ষণে ক্ষণে ছাই চাপা আগুন জ্বলে উঠছে। যা নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস। তবে, এখানে আর লাশ নেই বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শনিবার (১০ জুলাই) ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত কমিটির প্রধান ও পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেনেন্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিল্লুর রহমান বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণের পরও ভবনের বিভিন্ন জায়গার ধ্বংসস্তূপ থেকে আগুনের শিখা জ্বলে। ফায়ার সার্ভিসের ভাষায় একে ডাম্পিং বলা হয়। সেসব আগুন নেভানোর চেষ্টা চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস। ফায়ার সার্ভিসের ১০ জনের একটি দল ছয়তলা ভবনে ঢুকেছে।
গত বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) বিকেলে রূপগঞ্জের হাসেম ফুডস লিমিটেড কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ওই আগুনের ঘটনায় প্রথম দিন তিনজনের মৃত্যু হয়। আহত হন অর্ধশত শ্রমিক। ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের ১৮টি ইউনিট ২০ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
আরও পড়ুন: রূপগঞ্জে হতাহতরা বেশিরভাগই শিশু-কিশোর
আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর গতকাল শুক্রবার ওই ভবনের চারতলা থেকে ২৬ নারীসহ ৪৯ জনের লাশ উদ্ধার করে। সব মিলিয়ে ৫২টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আগুনে লাশ পুড়ে যাওয়ায় পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। লাশগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ টেস্টের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের কারখানায় প্রায় ২০০ শ্রমিক কাজ করছিলেন। নিখোঁজের তালিকায় ৫২ শ্রমিকের নাম আছে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জের সিপিবি সভাপতি দাবি করেন, কারখানাটিতে অধিকাংশই শিশু শ্রমিকই বে-আইনিভাবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তিনি তার সংগঠনের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় যথাযথ বিচার দাবি করেছেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুভাষ চন্দ্র সাহা জানান, তারা চেষ্টা করে যাচ্ছেন। মরদেহগুলার ডিএনএ টেস্ট করা হবে। তিনি বলেন, সবগুলো মরদেহ আগুনে পুড়ে ঝলছে গেছে। আত্মীদের সঙ্গে ডিএনএ সিম্পল মিলিয়ে পরবর্তীতে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।
আরও পড়ুন: ‘শনাক্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনো মরদেহ হস্তান্তর করা হবেনা’
অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুরুন নবী জানিয়েছেন, পরিচয় শনাক্তে মরদেহগুলার ডিএনএ টেস্ট করা হবে। তারপর পরিচয় শনাক্ত হলে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। শনাক্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনো মরদেহ হস্তান্তর করা হবেনা।
একাত্তর/আরএ