লাশ পেতে চলতি মাস অপেক্ষা করতে হবে স্বজনদের

নারায়ণগঞ্জের রুপগঞ্জে হাসেম ফুডস লিমিটেড কারখানার অগ্নিকাণ্ডে নিহত শ্রমিকদের মরদেহ পেতে স্বজনদের অপেক্ষা করতে হবে ২১ থেকে ৩০ দিন। তাতে করে চলতি মাস পেরিয়ে যাবে। নিহত শ্রমিকদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। 

পুলিশের ফরেনসিক বিভাগ বলছে, অগ্নিকাণ্ডে নিহত শ্রমিকদের মরদেহ দেখে চেনার উপায় নেই। স্বজনরাও চিনতে পারছেন না পরিচিতদের। তাই ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা হবে। আর এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে চলতি মাস পেরিয়ে যাবে। ২১ থেকে ৩০ দিন অপেক্ষা করতে হবে স্বজনদের।  

এদিকে শনিবার (১০ জুলাই) সকালেও হাসেম ফুডস লিমিটেড কারখানার ছয় তলার আগুন নেভানোর পরে ক্ষণে ক্ষণে ছাই চাপা আগুন জ্বলে উঠছে। যা নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস। তবে এখানে আর মরদেহ নেই বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (ফরেনসিক) রোমানা আক্তার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডে নিহত শ্রমিকদের শনাক্তের জন্য তাদের স্বজনদের স্যাম্পল সংগ্রহ শুরু হয়েছে। এরপর এসব স্যাম্পলের প্রোফাইলিং করে নিহত শ্রমিকদের ডিএনএ'র সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। যাদের সঙ্গে ডিএনএ ম্যাচ করবে তাদের কাছে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লাশ হস্তান্তর করা হবে।

আরও পড়ুন: ৬ তলায় ছাই চাপা আগুন, অভিযান চলছে

এর আগে বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) সন্ধ্যার পর ছয়তলা কারখানাটির নিচতলার একটি ফ্লোরে কার্টন থেকে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত। ধীরে ধীরে সে আগুন পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে শ্রমিকরা ছোটাছুটি শুরু করে। কেউ কেউ ভবনের ছাদে অবস্থান নেয়। আবার অনেকে আতঙ্কে ছাদ থেকে লাফ দেন। এসময় ঘটনাস্থলে রানী ও মিনা আক্তার নামের দুই নারী নিহত হন। পরে ইউএস-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক শাহাদাত হোসেন নামের আরও এক শ্রমিকের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। এখন পর্যন্ত ৫২ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। 

এছাড়া স্থানীয় হাসপাতল ও ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটে চিকিৎসা নিচ্ছেন প্রায় ৩০ জন। 


একাত্তর/আরবিএস