রাজশাহী ও ফেনীর পাঁচটি ভোট কেন্দ্রে আগুন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি কেন্দ্রে বিকট শব্দের বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে আরো দুটি তাজা ককটেল। এ ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও পুড়ে গেছে স্কুলের আসবাবসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম।
ভোটের আগে নাশকতা, অগ্নি সন্ত্রাস ও জনমনে আতঙ্ক ছড়ানোর এ ঘটনা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো।
শুক্রবার সকালে ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় একটি এবং বৃহস্পতিবার রাতে রাজশাহীর তিন উপজেলায় চারটি ভোট কেন্দ্রে আগুন দেয়া হয়।
ফেনীতে আগুন দেয়া হয়েছে পেট্রোল ঢেলে আর রাজশাহী থেকে পেট্রোল বোমা উদ্ধারের কথা জানিয়েছেন পুলিশ।
এক দশক আগে ২০১৪ সালে ভোট প্রতিহত করতে সারা দেশজুড়ে ব্যাপক নাশকতা চালায় বিএনপি-জামায়াত জোট। ভোটের দিক সকালেই ১৪৭টি আসনে বিভিন্ন জায়গায় সহিংসতার কারণে প্রায় ১৪০টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করে দেওয়া হয়।
তখন নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, ভোটকেন্দ্রে আগুন, ব্যালট পেপার পুড়িয়ে দেয়া কিংবা ছিনিয়ে নেয়ার কারণে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়।
শুক্রবার সকাল সাতটার দিকে ফেনীর সোনাগাজী চরদরবেশ ইউনিয়নের চরসাহাভিকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে আগুন দেয়া হয়।
আধা ঘণ্টার মধ্যে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র করা হয়েছে ওই স্কুলটিতে। তবে যেখানে আগুন দেয়া হয়েছে, সেখানে কোনো বুথ রাখা হয়নি।
থানা পুলিশের পাশাপাশি পিবিআই ও অন্যান্য সংস্থা এ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ফেনীর পুলিশ সুপার মো. জাকির হাসান।
এদিকে শুক্রবার রাতে রাজশাহীর চারটি নির্বাচন কেন্দ্রে আগুন দেয়া হয়। ভোট কেন্দ্রগুলো হলো- বাঘা উপজেলার পাকুরিয়া জোতনাশী প্রাথমিক বিদ্যালয়, আড়ানী ইউনিয়নের জিনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাগমারা উপজেলার গনিপুর আক্কেলপুর উচ্চ বিদ্যালয় এবং মোহনপুর উপজেলার মতিহার উচ্চবিদ্যালয়।
রাজশাহীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম জানান, বিদ্যালয়ের বাইরে পেট্রোল বোমা পড়ে থাকতে দেখা যায়। এ বিষয়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
গভীর রাতে বাঘা উপজেলার জিনা ও জোতনাশী কেন্দ্রে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। স্কুলের আসবাবপত্র পুড়ে গেছে।
বাগমারা উপজেলার দুটি কেন্দ্রে আগুন দেওয়ার পাশাপাশি বিকট শব্দে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। সেখানে থেকে উদ্ধার করা হয়েছে অবিস্ফোরিত দুইটি তাজা ককটেল।
রাজশাহীর বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অরবিন্দ সরকার বাংলানিউজকে জানান, আক্কেলপুর উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের আগুন স্থানীয়রা নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ভোটকেন্দ্রের সামনে দুটি অবিস্ফোরিত তাজা ককটেল উদ্ধারের পর নিষ্ক্রিয় করা হয়।