গুড়িয়ে দেওয়া হলো মেঘনা পাড়ের ৫০ অবৈধ স্থাপনা

বিশেষ অভিযান চালিয়ে দুইদিনে ভেঙে গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় মেঘনা নদীর তীর দখল করে গড়ে ওঠা ৫০টি অবৈধ স্থাপনা।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ বা বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তারা বলছেন, কোনো নদী খেকোকে ছাড় দেবে না তারা।

অভিযানের প্রথম দিন বুধবার মেঘনা নদী ভরাট করে গড়ে তোলা রিসোর্টসহ উচ্ছেদ করা হয় ৩৫টি অবৈধ স্থাপনা। আর দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার ভাঙা হয় ১৫টি স্থাপনা, এরমধ্যে একটি চারতলা ভবনও রয়েছে।

গত দুই দিনের বিশেষ অভিযানে নেতৃত্ব দেন বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাসলিমা আকতার। প্রথমদিন বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার চরকিশোরগঞ্জ এলাকা থেকে উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হয়ে চলে বিকাল চারটা পর্যন্ত।

অভিযানের সময় সঙ্গে রাখা হয় বুলডোজার, এক্সকেভেটরসহ ভারী যন্ত্রপাতি। অবৈধ হিসেবে চিহ্নিত করাব স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়া হয় একের পর এক।

প্রথমদিন যে ৩৫টি অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে-নদীর তীরে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা সাতটি মিনি রিসোর্ট, ১৫টি দোকান এবং ১৩টি অন্যান্য অবৈধ স্থাপনা।

দ্বিতীয় দিন বৈদ্যের বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে উচ্ছেদ করা হয় ১৫টি স্থাপনা। এখানেই পাঁচ বছর আগেও একবার ভাঙা হয়েছিলো একটি ভবন। কিন্তু অভিযান শেষ হওয়ার আবার সেই ভবনটিতে চারতলা পর্যন্ত ছাদ ঢালাই দেয়া হয়। আর নিচের দুইতলায় দোকান বানিয়ে দেয়া হয় ভাড়া।

এই ভবনটি সরিতে নিতে বারবার নোটিশও দেয়া হলেও তাতে কান দেয়া হয়নি বলে জানান বিআইডব্লিউটিএর মেঘনা ঘাট নদী বন্দরের উপপরিচালক মো. শরিফুল ইসলাম। বলেন, তাই এবার ভেঙে গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

প্রথমদিন চরকিশোরগঞ্জে অভিযানের সময় স্থানীয় কিছু মানুষ বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তাদের বাধা দেন। কিন্তু তাতে অভিযান বন্ধ হয়নি।

ইটপাটকেল ছুড়ে এক্সকেভেটরের সামনের কাচ ভাঙচুর করা হয়। এতে এর চালক সামান্য আহত হন। পুলিশ দুই যুবককে আটক করে ও বাকিদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়।

জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের হিসেবে, দেশে বর্তমানে নদ-নদীর সংখ্যা এক হাজার আটটি। আর নদীপথ রয়েছে ২২ হাজার কিলোমিটার।

তবে, বিআইডব্লিউটিএর তথ্যমতে, শুষ্ক মৌসুমে দেশে ইঞ্জিনচালিত নৌযান চলাচল করতে পারে এমন নৌপথের দৈর্ঘ্য চার হাজার ৮০০ কিলোমিটার। আর বর্ষা মৌসুমে সাত হাজার ৬০০ কিলোমিটার।