রাখাইনে গোলাগুলির তোড়ে নাফ নদীতে রোহিঙ্গারা

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির মধ্যে চলছে তুমুল লড়াই। এমন পরিস্থিতিতে রাখাইন রাজ্যের অনেক রোহিঙ্গা সীমান্তের নাফ নদীতে ছোট ছোট নৌকায় আশ্রয় নিয়েছেন। এতে নতুন করে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

রোববার সকাল ৮টা থেকে টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ সীমান্তে গোলার শব্দ পায় সীমান্তের লোকজন। গত রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত টেকনাফের হোয়াইক্যং কানজরপাড়া-খারাংখালী এলাকায় বিকট গুলির শব্দ শুনেছে লোকজন। সীমান্তের ওপারে যুদ্ধ তীব্র হওয়ায় অনুপ্রবেশের আশঙ্কায় আছে লোকজন।

এ বিষয়ে কোস্টগার্ড চট্রগ্রাম পূর্বজোনের মিডিয়া কর্মকর্তা বলেন, অনুপ্রবেশ রোধে নাফ নদীতে আমাদের টহল জোরদার করা হয়েছে। আমরা জানুয়ারি ২৫ থেকে ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২ শতাধিকের বেশি রোহিঙ্গাকে প্রতিহত করেছি। সর্বশেষ শনিবার তিনজনকে শাহপরীর দ্বীপ থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

শাহপরীর দ্বীপ সীমান্তের বাসিন্দা এমান উল্লাহ বলেন, রাতে গোলার শব্দ পাওয়া না গেলেও রোববার সকাল ৮টা থেকে মিয়ানমার সীমান্তের গোলার আওয়াজ বাড়ি পর্যন্ত পাওয়া গেছে। জীবনে এমন গুলির আওয়াজ কোনো সময় পায়নি আমরা। গোলার ভয়ঙ্কর আওয়াজে আমার দেড় বছরের শিশু ঘুম ভেঙ্গে কেঁদে উঠে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আদনান চৌধুরী বলেন, সীমান্তে প্রায় সময় গোলাগুলির শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু সীমান্তে নাফ নদী থাকার কারণে আমরা অনেকটা ‘সেফ জোন’ আছি। তবুও আমরা সীমান্তের বসবাসকারীদের সর্তক থাকতে বলেছি।

মিয়ানমারের লালবুনিয়া এলাকায় ৪০০ থেকে ৫০০ রোহিঙ্গা তাদের বাড়িঘর থেকে পালিয়ে নৌকায় আশ্রয় নিয়েছে। এদের অনেকেই কক্সবাজার ক্যাম্পে থাকা স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। এরমধ্যে নাফ নদী হয়ে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাটে একটি নৌকা ঢুকে পড়ে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় লোকজন বলছেন, শনিবার সন্ধ্যার দিকে মিয়ানমারের একটি ছোট মাছ ধরার ডিঙি নৌকায় করে নাফ নদী পার হয়ে টেকনাফের সাবরাং শাহপরীর দ্বীপ জেটি ঘাটে এসে অবস্থান করছিলো। এর মধ্যে নৌকার মাঝিমাল্লাও ছিল। নৌকায় পাঁচজন রোহিঙ্গা আছেন, যাদের মধ্যে একজন গুলিবিদ্ধ।

খবর পেয়ে বিজিবি ঘটনাস্থলে যায়। বিজিবির সদস্যরা কাউকে ঢুকতে দেয়নি। এই বিষয়ে টেকনাফে দায়িত্বে থাকা বিজিবি’র পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জেটি ঘাটের ঝুপড়ি দোকানদার সেলিম জানান, মিয়ানমারের একটি ডিঙি নৌকা শাহপরীর দ্বীপ জেটি ঘাটে এসে পৌঁছায়। এদের মধ্যে একজন গুলিবিদ্ধ নারীসহ পাঁচ জন রোহিঙ্গা আছে। এর মধ্যে রোহিঙ্গা নারীর শরীরে স্যালাইন টাঙানো অবস্থা দেখা যায়। তাদের মনে হয়েছে গুলিবিদ্ধরা চিকিৎসা নিতে এসেছেন।