প্রশিক্ষিত শিক্ষকের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিশুদের মাতৃভাষায় লেখাপড়া শেখা। শিক্ষার্থীদের পড়াতে নিয়োগ দেয়া শিক্ষকদের বেশিরভাগই নিজ ভাষায় লিখতে ও পড়তে জানেন না। এতেই ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিশুদের জন্য ১৮টি ভাষায় শিক্ষা কার্যক্রম চালুর কোনো অগ্রগতি এখন পর্যন্ত নেই। সংকটের কথা স্বীকার করে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে জেলার শিক্ষা অফিস।
মায়ের ভাষায় শিক্ষা লাভ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি। সেই দাবি মেনে এখন স্ব-স্ব মাতৃভাষায় লেখাপড়ার সুযোগ পাচ্ছেন পাহাড়ের তিনটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিশুরা।
তবে শিক্ষার্থীরা বলছেন, প্রাথমিক পর্যায়ে মাতৃভাষায় পাঠদানের উদ্যোগ নেয়া হলেও প্রশিক্ষিত শিক্ষকসহ নানা প্রতিবন্ধকতায় ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান। উদ্যোগেই আটকে আছে শিক্ষার্থীদের মাতৃভাষায় শিক্ষা লাভ।
শিক্ষকরা জানান, তাদের কাছে মোটামুটি এক ধরনের চ্যালেঞ্জ শিক্ষার্থীদের পড়ানো। কারণ অনেক শিক্ষকই নিজ নিজ ভাষায় লিখতে ও পড়তে জানেন না।
সংকটের কথা স্বীকার করছেন এনসিটিবির সদস্যরা। আর সহকারী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেয়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
খাগড়াছড়ি শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের সুপারিনটেনডেন্ট উত্তম কুমার দাশ গুপ্ত বলেন, আমরা যেভাবে অগ্রগতি চেয়েছি, তা সম্পূর্ণরূপে হয়নি। কারণ, প্রাথমিক শিক্ষা মাঠ পর্যায়ে যেমন হওয়ার কথা, ঠিক সেভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না।
সহকারী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মুহম্মদ মোছাদ্দেক হোসেন বলেন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে অনুরোধ করেছি। পাশাপাশি চিঠির মাধ্যমে কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি জানিয়েছি।
মাতৃভাষা রক্ষায় দীর্ঘদিনের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে সরকার চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো ও সাদরি-এই পাঁচ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিশুদের প্রাক-প্রাথমিকে মাতৃভাষায় পাঠদান হয় ২০১৭ সালে।