হারিয়ে যাচ্ছে শেরপুর সীমান্ত অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি। পরিবারে চর্চা কমে যাওয়া এবং নিজস্ব ভাষায় লেখাপড়ার সুযোগ না থাকায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষেরা।
ভাষা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষায় সংস্কৃতি কেন্দ্র, পাঠ্যবই এবং শিক্ষক দরকার বলে দাবি তাদের।
শেরপুরের প্রত্যন্ত ঝিনাইগাতির ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিশুদের মাতৃভাষা এবং রাষ্ট্রভাষায় পড়ার কথা থাকলেও, মাতৃভাষায় পড়ানোর জন্য কোনো শিক্ষক নেই তাদের।
তাই প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বইয়ের পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষায় দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ ও সংস্কৃতি কেন্দ্র স্থাপনের দাবি তুলছেন ক্ষুদ্র জাতিসত্তার নেতারা।
শেরপুরের আদিবাসী সক্ষমতা উন্নয়ন প্রকল্পের (আইইডি) ফেলো সুমন্ত বর্মণ বলেন, একদিকে বাংলা ভাষার আগ্রাসন ও অন্যদিকে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবের আগ্রাসনে আদিবাসী শিশুরা তাদের সংস্কৃতিকে ধরে রাখার যথেষ্ট চেষ্টা করতে উৎসাহ বোধ করে না।
তবে শিক্ষক সংকট সমাধানে যথাযথ জায়গায় প্রস্তাব দেয়া হয়েছে বলে জানালেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নূর আলম মির্ধা।
তিনি বলেন, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে বই সরবরাহ করা হলেও, তা পড়ানোর জন্য যথেষ্ট শিক্ষকের ঘাটতি রয়েছে।
এদিকে শেরপুরের জেলা প্রশাসক মো. মোমিনুর রশীদ জানান, সরকারিভাবে একটি একাডেমি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, শেরপুরের সীমান্তবর্তী শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ি উপজেলায় সাতটি নৃগোষ্ঠীর প্রায় ৫৪ হাজার মানুষের বসবাস। এর মধ্যে গারো, কোচ, বর্মণ ও হদিদের সংখ্যাই বেশি।
আইইডির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এ জেলায় গারো সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা ১৬ হাজার পাঁচশ' জন, হাজং জনসংখ্যা চার হাজার সাতশ' জন, হদি ১০ হাজার ছয়শ' জন, বর্মণ ১৭ হাজার জন, কোচ তিন হাজার পাঁচশ' জন, ডালু এগারশ' জন এবং বানাই একশ' ১০ জন।
একাত্তর/এসজে
