গৃহবধূ হত্যা মামলার পলাতক আসামী গ্রেপ্তার 

নওগাঁর ধামুইরহাটে গৃহবধূকে মহসিনা খাতুনকে (৩০) শ্বাসরোধে হত্যা মামলার এক পলাতক আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। 

শনিবার ভোর রাতে উপজেলার গোপীরামপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার আসামীর নাম বিদ্যুৎ হোসেন (৪৬)। বিদ্যুৎ হোসেন ধামুইরহাট উপজেলার গাংরা গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে। 

নিহত মহসিনা খাতুন একই উপজেলার বিহারীনগর গ্রামের নরুল আমিন ওরফে এরশাদের স্ত্রী এবং একই জেলার পার্শ্ববর্তী দিবর খান্দই গ্রামের সলিম উদ্দিনের মেয়ে।  ১২ মার্চ সকালে স্বামীর বাড়ির পার্শ্বের একটি আমগাছ থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। 

মামলা সূত্রে জানা গেছে, আয়নার সাথে তার স্বামী নরুল আমিন ও স্বামীর পরিবারের লোকজনের ছোটখাটো বিষয়ে বিরোধ লেগেই থাকতো। এই বিরোধের জের ধরে ১১ মার্চ রাতের কোন এক সময় আয়নাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে স্বামী ও তার পরিবারে লোকজন। এরপর বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য নরুলের নিজ বাড়ির আম গাছে ঝুলিয়ে রাখে স্ত্রীর মরদেহ। 

ঘটনার পর আয়নার স্বামী, শ্বাশুর, শাশুড়ীসহ ঘনিষ্ট আত্মীয়-স্বজনরা পালিয়ে যান। ঘটনাটি জানতে পেরে আয়নার বাবা থানায় সংবাদ দেন। পুলিশ ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে।

এ ঘটনায় নিহত আয়নার চাচা আব্দুল হামিদ বাদী হয়ে ধামুইরহাট থানায় শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে স্বামী নরুল আমিন, শ্বাশুর, শাশুড়ী সহ চারজনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। 

র‌্যাব-৫, জয়পুরহাট ক্যাম্পের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মাহাবুবুল আলম জানান, এ ঘটনায় জয়পুরহাট র‌্যাব ক্যাম্প একটি অভিযোগে পেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ শনিবার ভোর রাতে গোপীরামপুর এলাকা থেকে হত্যা মামলার পলাতক আসামী বিদ্যুৎ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাকি আসামীদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।   

ধামইরহাট থানার ওসি (তদন্ত) হাবিবুর রহমান জানান, ঘটনার পর থেকে আয়নার তার স্বামী, শ্বাশুর, শাশুড়ীসহ ঘনিষ্ট আত্মীয়-স্বজনেরা পলাতক থাকায় মামলার আসামীদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে র‌্যাবের পক্ষ থেকে মামলার পলাতক আসামী বিদ্যুৎ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনাগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।