কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে পাওয়া গেছে রেকর্ড পরিমাণ টাকা। চার মাস ১০দিনের ব্যবধানের মসজিদের ৯টি দানবাক্সে মিলেছে সাত কোটি ৭৭ লাখ ১২ হাজার ৫৫৭ টাকা। যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ।
শনিবার সকাল সাড়ে সাতটা থেকে দিবাগত রাত পৌনে দুইটা পর্যন্ত গণনা করে এই পরিমাণ টাকা পাওয়া গেছে। এছাড়া পাওয়া গেছে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার ও বৈদেশিক মুদ্রা।
কিশোরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ পারভেজ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
শনিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ মসজিদ পরিচালনার কমিটির কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলা হয়।
টাকা গণনার কাজে রূপালী ব্যাংকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক রফিকুল ইসলামসহ ব্যাংকের ৭০ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী, পাগলা মসজিদের স্টাফ, মসজিদ সংশ্লিষ্ট এতিমখানার ১০২ জন শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ দুই শতাধিক মানুষ অংশ নেন।
রাত পৌনে দুইটার দিকে গণনা কাজ শেষ হলে কঠোর নিরাপত্তায় টাকাগুলো রূপালী ব্যাংকের ভল্টে জমা করা হয়েছে।
এর আগে গত ৯ ডিসেম্বর খোলা হয়েছিল পাগলা মসজিদের ৯টি দান বাক্স। তখন রেকর্ড ছয় কোটি ৩২ লাখ ৫১ হাজার ৪২৩ টাকা পাওয়া গিয়েছিল।
কিশোরগঞ্জ শহরের পশ্চিম প্রান্তে হারুয়া এলাকায় নরসুন্দা নদীর তীরে তিন একর ৮৮ শতক জায়গা নিয়ে দৃষ্টিনন্দন পাগলা মসজিদ ও ইসলামী কমপ্লেক্সের অবস্থান। সুউচ্চ মিনার ও তিন গম্বুজ বিশিষ্ট তিন তলা পাগলা মসজিদটি কিশোরগঞ্জের অন্যতম ঐতিহাসিক স্থাপনা। এ মসজিদকে ঘিরে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। এ মসজিদে দান করলে মনোবাসনা পূর্ণ হয়- এ বিশ্বাস থেকেই পাগলা মসজিদে দেশ-বিদেশের নানা ধর্ম ও বর্ণের মানুষ টাকা, স্বর্ণালংকার ও বৈদেশিক মুদ্রা দান করে থাকেন। অনেকে রাতে গোপনে এসে এ মসজিদে দান করেন বলে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন। ফলে দিন দিন পাগলা মসজিদে দানের পরিমাণ বেড়েই চলেছে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ জানান, পাগলা মসজিদের সার্বিক নিরাপত্তায় পুলিশ তৎপর রয়েছে। মসজিদ ও আশপাশ এলাকার নিরাপত্তায় ডিজিটাল ডিভাইসগুলো সক্রিয় রয়েছে। টাকা গণনা থেকে শুরু করে সে টাকাগুলো ব্যাংকে নেয়ার কাজটি কঠোর নিরাপত্তায় করা হয়ে থাকে বলে তিনি জানান।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ জানান, পাগলা মসজিদকে ঘিরে দেশ বিদেশের মানুষের অনুভূতি কাজ করে। তাই সব ধর্মের মানুষ এখানে দান করে থাকেন। দানের এ টাকা দিয়ে শত কোটি টাকার একটি দৃষ্টিনন্দন মসজিদ নির্মাণ করা হবে। অন্তত ৩০ হাজার মানুষ যাতে এক সঙ্গে নামাজ পড়তে পারে এমন একটি দৃষ্টিনন্দন মসজিদ নিমার্ণের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া জেলার মসজিদ, মাদ্রাসা ও হতদরিদ্রদের চিকিৎসা খাতে অনুদান দেয়া হয়ে থাকে বলে তিনি জানান।
বাংলার ১২ ভূঁইয়ার অন্যতম ঈশা খানের আমলে দেওয়ান জিলকদর খান ওরফে জিলকদর পাগলা নরসুন্দা নদীর তীরে বসে নামাজ আদায় করতেন। তিনি মারা গেলে ভক্তরা সেখানে মসজিদটি নির্মাণ করেন। জিলকদর পাগলার নামানুসারেই মসজিদটি ‘পাগলা মসজিদ’ হিসেবে পরিচিতি পায়।