গাজীপুরে লিফটে আটকে রোগীর মৃত্যু, চলছে দোষারোপ

গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লিফটে আটকে থেকে রোগী মৃত্যুর ঘটনায় নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও মৃতের স্বজনদের আলাদা দাবী নিয়ে চলছে তোলপাড়। 

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ছাড়াও এই লিফটের মূল ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলো গণপূর্ত বিভাগের বিদ্যুৎ বিভাগ। তাদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত লিফটের মান ও তাদের ব্যবস্থাপনা নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। 

রোববার সকাল সাড়ে দশটায় শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লিফট আটকে মমতাজ বেগম নামের এক রোগীর মৃত্যু হয়। 

নিহতের স্বজনরা জানান, মমতাজ বেগমের হার্টের সমস্যা দেখা দিলে কাপাসিয়া উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের বাড়িগাঁও এলাকা থেকে সকাল ৬টার দিকে তাকে নিয়ে শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসেন তারা। এরপর হাসপাতালের ১০ তলা থেকে ৪ তলায় যাওয়ার উদ্দেশে রোগী নিজেই ট্রলিতে ওঠেন। পরে তাকে হাসপাতালের ৩ নম্বর লিফটে উঠানো হয়। এ সময় রোগীর ছেলে আব্দুল মান্নান ও মেয়ে সারমিন সুলতানাসহ হাসপাতালে আসা আরও ১৫-২৬ জন লোক ছিল। তাদের নিয়ে ১০ তলা থেকে ৯ তলার মাঝামাঝি পৌঁছালে লিফটি বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় লিফটে থাকা ৩ জন অপারেটরের মোবাইল নম্বরে কল দিলে তারা চা খেয়ে আসছি বলে কালক্ষেপণ করেন। লিফটি সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সোয়া ১০টা পর্যন্ত ওই অবস্থায় আটকা ছিল। এরই মধ্যে দম বন্ধ হয়ে মমতাজ বেগম মারা যান। 

লিফটে আটকে থেকে রোগী মারা যাওয়ার ঘটনায় গণপূর্ত বিভাগ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে। 

লিফটের মান ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন রোগীর স্বজনরা। ওই সময় লিফটে থাকা নাম্বারে বারবার ফোন দিয়েও কাউকে পাওয়া যায়নি বলেও অভিযোগ তাদের। তারা জানান, একই মাসের ৩ মে, এই হাসপাতালের ১২ তলা থেকে পড়ে মারা যান এক রোগী।

এদিকে নির্বাহী প্রকৌশলী ও হাসপাতালের উপ-পরিচালক এ ব্যাপারে পরিচালকের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর একটি চিঠি পাঠান। চিঠিতে বলা হয়, লিফটের সার্বিক ব্যবস্থাপনার মূল দায়িত্ব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নয়, গণপূর্ত বিভাগের। তবে এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য গণপূর্ত বিভাগের কাউকে পাওয়া যায়নি। 

এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে দুটি তদন্ত কমিটি কাজ করছে। অন্যদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অন্য একটি কমিটিও তদন্ত করছে।