ঋণ পরিশোধের পরও কৃষকের ঘাড় থেকে নামছে না বোঝা

ঋণ নিয়ে সময়মতো পরিশোধ করেছেন কৃষক। তারপর আবার ঋণ নিতে গিয়ে দেখেন তার নামে আবারও ঋণ নেয়া হয়েছে কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক থেকে। এরকম অভিযোগ জয়পুরহাটের একাধিক কৃষকের। অভিযোগের আঙুল পুরানাপৈল রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের এক কর্মচারীর দিকে। 

এদিকে ওই ব্যাংকের কর্মচারী মুস্তাফিজ পলাতক। তদন্তের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যাংক কর্মকর্তা।

জয়পুরহাট সদরের পুরানাপৈল রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের শাখা। কৃষিঋণ কেলেঙ্কারিতে উধাও হয়ে গেছেন এই ব্যাংকের এক কর্মচারী।

এই ব্যাংক থেকে গত বছর ঋণ নিয়েছিলেন তাজপুর গ্রামের কৃষক আমিনুর রহমান। সুদ-আসলে সেই ঋণ পরিশোধ করে গত ১৩ মে আবারও ঋণ নিতে গিয়ে জানতে পারেন কয়েকদিন আগেই এক লাখ ৩০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছেন তিনি। তার মতই ভুক্তভোগী আরো কয়েকজন কৃষক।

এই ঋণ কেলেঙ্কারির পক্ষে অদ্ভুত তত্ত্ব দাঁড় করিয়েছেন ব্যাংকটির ম্যানেজার। বলেন, ব্যাংকের স্বার্থেই মাঝে-মধ্যে এমন অনিয়ম করতে হয়।

জয়পুরহাট রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক আজমেরী হোসেন বলেন, কৃষক যেহেতু ঋণ দিতে পারে না, আমরা কৃষকের ঋণ সহজ করার জন্য কাজটা করে থাকি। আমরা কৃষককে বলি যে, আপনারা কারো কাছ থেকে নিয়ে আসেন।   

ঋণ জালিয়াতির এখবর জানাজানি হওয়ার পর থেকে উধাও হয়ে গেছেন ব্যাংকটির মোস্তাফিজ নামের এক কর্মচারী। এ ঘটনার তদন্ত করছে ব্যাংকের জোনাল অফিস।

জয়পুরহাট কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের জোনাল ম্যানেজার জাফর আলী মল্লিক বলেন, এই অভিযোগে যথাযথ তথ্য উদঘাটনের জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পরই পরবর্তীতে আমাদের করণীয় কী তা জানানো হবে।   

তবে দ্রুত তদন্ত শেষ করে ব্যাংকের দোষী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।