টানা বৃষ্টি ও ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে কুমিল্লার গোমতী নদীর দুপাড়ের এলাকাসহ জেলার আদর্শ সদরের পাচতুবি, আমড়াতলি, জগন্নাথপুর ইউনিয়নের আংশিক ও চৌদ্দগ্রাম উপজেলা।
ভারতের সীমান্তবর্তী ফেনীর লাগোয়া কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার নিম্নাঞ্চলের কাশিনগর, মুন্সিরহাট, শ্রীপুর, শুভপুর, উজিরপুর ইউনিয়নের প্রায় সবগুলো গ্রাম তলিয়ে আছে৷ এসব ইউনিয়নের কয়েক লাখ মানুষ ভিটেমাটি ছেড়ে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও গবাদিপশু নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বন্যার পানিতে ডুবে ছিলো ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম অংশের পাঁচ কিলোমিটার এলাকা। ফলে বন্ধ রয়েছে সকল প্রকার যান চলাচল।
বিকেলে মহাসড়কে চৌদ্দগ্রাম অংশের পানি কিছুটা কমলেও ফেনীর লালপোল এলাকায় বন্যার পানি বেড়ে যাওয়ার কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে বলে জানান হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা রিজিয়নের অতিরিক্ত ডিআইজি খাইরুল আলম।
এদিকে বুধবার রাত থেকে সম্পূর্ণ চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। ধীরগতিতে চলছে মোবাইল ইন্টারনেট। ফলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন বেশ কিছু এলাকার মানুষ।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ বলেন, উদ্ধারকারী দল এখনও অনেক এলাকায় পৌঁছাতে পারেনি। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে সমস্যা হচ্ছে। কিছু এলাকায় শুকনো খাবার পোঁছাতে পেরেছি। তবে সেনাবাহিনীর সদস্যরা এখনও তাদের কার্যক্রম শুরু করেনি।
কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আবদুল লতিফ বলেন, বুধবার রাতে চৌদ্দগ্রাম দিয়ে বয়ে যাওয়া কাঁকড়ি নদীর একটি অংশে বাঁধ ভেঙে গেছে। এছাড়া অতিবৃষ্টির কারণে নদীর বাঁধ ডুবে গ্রামে পানি ঢুকেছে। অন্যদিকে গোমতী নদীর পানি বিপৎসীমার ১১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
কুমিল্লা আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছৈয়দ আরিফুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ১৯৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টা কুমিল্লায় বজ্রসহ ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে ভুক্তভোগীদের মধ্যে খাবার বিতরণ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কসহ শিক্ষার্থী, জেলা ও মহানগর বিএনপি, স্বেচ্ছাসেবকদল, ছাত্রদল, জেলা ও মহানগর জামায়াত ইসলামী ও ছাত্র শিবির।