অতি বৃষ্টি ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়ির পর এবার রাঙ্গামাটিতেও পানি ঢুকতে শুরু করেছে। রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি, কাউখালি, জুরাইছড়ি, বরকল, বিলাইছড়ি, লংগদু ও নানিয়াচর উপজেলায় ১৫ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন।
ভারী বৃষ্টিপাতে তলিয়ে গেছে রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কের কুতুকছড়ি এলাকার বেইলি ব্রিজসহ একাধিক সড়ক। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সড়কে চলাচল করা যাত্রীরা। রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক সড়ক পানিতে ডুবে যোগাযোগ সাময়িক বন্ধ রয়েছে।
এদিকে কয়েকদিনের টানা বর্ষণে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার সকালে রাঙ্গামাটির ২১টি স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি মহাসড়কের ঘাগড়ার কলাবাগান এলাকায় পাহাড় ধসে প্রায় ২ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিলো।
এছাড়াও জেলার বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় পাহাড় ধসের খবর পাওয়া গেছে। তবে এখনও প্রাণহানির কোনো ঘটনা ঘটেনি।

রাঙ্গামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম, ঘাগড়া-বড়ইছড়ি-বান্দরবান এবং রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কের ২১টি স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে, রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়কে এক ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। তবে রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কের কেঙ্গেলছড়ি এলাকা প্লাবিত হওয়ায় ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
এছাড়াও ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢল ভয়াবহ আকার ধারণ করায় কাউখালী উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে করে উপজেলা সদরের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার হ্যাপী দাস জানিয়েছেন, কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢল ভয়াবহ আকার ধারণ করায় কাউখালী উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। কয়েকটি এলাকায় ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়েছে। বর্তমানে তারা আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।
তিনি আরও জানান, এছাড়া নতুন করে প্লাবিত হয়েছে রাঙ্গামাটির মানিকছড়ি সাপছড়ির নিম্নাঞ্চল। ঘরবাড়িতে বন্যার পানি ঢুকে যাওয়ায় মারাত্মক দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন পানিবন্দিরা। তাদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে কাজ করছে সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, প্রশাসনসহ বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী সংগঠন ও স্থানীয়রা।
দুই ইউনিয়নে ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি, ভেসে গেলো দুই যুবক
চাঁদপুরে অর্ধশতাধিক মাছের ঘের প্লাবিত