কিশোরগঞ্জে কওমি মাদ্রাসায় শিশু ধর্ষন, অধ্যক্ষ গ্রেপ্তার

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে ১০ বছরের এক মাদ্রাসা ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে কওমি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এক ইমামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত রবিবার (৮ আগস্ট) রাতে করিমগঞ্জ পৌরসভার নয়াকান্দি এলাকা থেকে ওই ইমামকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মাওলানা নূর মোহাম্মদ আজমী। তিনি স্থানীয় কওমি মাদ্রাসা জামিয়া আরাবিয়া দারুসসুন্নাহ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও উপজেলা জামে মসজিদের ইমাম। 

করিমগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মমিনুল ইসলাম জানান, ওই শিশু এক বছর ধরে উপজেলার জাফরাবাদ ইউনিয়নের ফাতিমা নগর এলাকার অবস্থান করে দ্বীনই শিক্ষা গ্রহণ করে আসছিল। গত ১৭ জুলাই রাত ১১টার দিকে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা নূর মোহাম্মদ আজমী ওই শিশুকে তার রুমে নিয়ে বলাৎকার করে। এর আগেও একাধিকবার তিনি ওই শিশুকে নির্যাতন করেন। এক পর্যায়ে শিশুটি গত ৪ আগস্ট মোবাইল ফোনে তার বাবাকে মাদ্রাসায় নিয়ে ধর্ষণের বিস্তারিত বিষয়টি জানায়। ক্ষুব্ধ হয়ে শিশুটির পিতা তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে শিশুটির পিতা করিমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু রিয়াদের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অভিযোগের সত্যতা পেয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে করিমগঞ্জ থানাকে নির্দেশ দেন। 

আরও পড়ুন: ময়মনসিংহ মেডিকেলে করোনা ও উপসর্গে ১৭ মৃত্যু

ওসি আরও জানান, ভিকটিমের পিতা রবিবার রাতে করিমগঞ্জ থানায় এজাহার দিলে সেটিকে মামলা হিসেবে রুজু করা হয়। এরপরই পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। 

স্থানীয়রা মসজিদের ইমাম ও মাদ্রাসার অধ্যক্ষের এ ধরণের কর্মকাণ্ডের কঠোর শাস্তির দাবি ও অভিযোগ করে বলেন, এর আগেও তিনি এ ধরণের কাজ করলেও পার পেয়ে গেছেন। এ বিষয়টিও ধামাচাপা দিতেও অনেকে তৎপর ছিলেন। 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবু রিয়াদ জানান, শিশু বলাৎকারের ঘটনায় জড়িত থাকায় উপজেলা জামে মসজিদের ইমামের পদ থেকে মাওলানা নূর মোহাম্মদ আজমীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। 

একাত্তর/এসি