টিকা দিতে নিয়ে গৃহবধূর গায়ে আগুন শ্বশুরবাড়ির লোকজনের

দীর্ঘ প্রায় ৩০ ঘন্টা দু:সহ যন্ত্রণা ভোগের পর অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানলেন টিকা দেয়ার কথা বলে গায়ে আগুন লাগিয়ে দেয়া পারভিন বেগম (৩০)। 

সোমবার (৯ আগস্ট) ভোর আনুমানিক ৪টায় ঢাকার শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে তার মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন নিহত পারভীন বেগমের ছোট ভাই আকরাম হোসেন। 

গত শনিবার (৭ আগস্ট) তার গায়ে আগুন লাগিয়ে দেয় তার সাবেক দেবর ও ননদ, দাবি করছেন পারভিনের পরিবারের সদস্যরা। 

এদিকে, মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজনদের আহাজারিতে তার গ্রামের বাড়িতে হৃদয়বিদারক অবস্থার সৃষ্টি হয়। কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তার বাবা-মা ও স্বজনরা। তারা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন। 

পুলিশ ও অগ্নিদগ্ধ নারীর পরিবার জানায়, পারভীন আক্তার (৩০) রায়পুরার মরজাল বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকার প্রবাসী জাকির হোসেনের সাবেক স্ত্রী। প্রায় ৮ মাস আগে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। জাকির হোসেন ও পারভীন আক্তার দম্পতির ১০ বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। মেয়েকে নিয়ে পারভীন তাঁর বাপের বাড়িতে থাকতেন। 

শনিবার (৭ আগস্ট) দুপুরে টিকা নিয়ে দেওয়ার কথা বলে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নেন সাবেক শ্বশুরবাড়ির লোকজন। পরে সন্ধ্যার পর দেবরসহ চারজন তার মুখ বেঁধে লোচনপুর এলাকার একটি নির্জন বাঁশঝাড়ের নিচে নিয়ে শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। 

আরও পড়ুন: কিশোরগঞ্জে কওমি মাদ্রাসায় ১০ বছরের শিশুকে কয়েক দফা বলাৎকার

স্থানীয় লোকজন চিৎকার শুনে আগুন নেভানোর পর তাকে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে তাকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। 

এ ঘটনায় রোববার (৮ আগস্ট) দুপুরে ওই নারীর ছোট ভাই আকরাম হোসেন বাদী হয়ে চারজনকে আসামী করে রায়পুরা থানায় মামলা করেন। মামলা হওয়ার আগেই এই ঘটনায় জড়িত দুজনকে আটক করে রায়পুরা থানার পুলিশ। তারা হলেন, রায়পুরার মরজাল এলাকার হাফিজ উদ্দিন মুন্সীর ছেলে আলী হোসেন (৩২) এবং তার ভাগনে ও কাজী আলতাফ হোসেনের ছেলে মো. শাহরিয়ার (১৮)।

গ্রেপ্তারকৃতদের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবী করা হয়েছে, পরিকল্পিতভাবে জাকির হোসেনের পরিবারকে ফাঁসানোর জন্য এ ঘটনা সাজানো হয়েছে। 

এ ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার ও বাকীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন রায়পুরা থানার অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারিন্টেন্ডেন্ট সত্যজিৎ কুমার ঘোষ। 


একাত্তর/এসজে