ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানাধীন উত্তর ভাদাইল গ্রামে ট্রিপল মার্ডারের রহস্য উন্মোচন করেছে ঢাকা জেলা পিবিআই। সম্পত্তির জন্য প্রথম স্ত্রীর ছেলেকে হত্যা করতে খুনি ভাড়া করেছিলেন চার বিয়ে করা মিজানুর ও চতুর্থ স্ত্রী স্বপ্না। কিন্তু এই ষড়যন্ত্র টের পেয়ে সৎমায়ের স্বর্ণ ও নগদ টাকার লোভ দেখিয়ে উল্টো বাবা ও সৎমাকে খুন করায় সেই ছেলে।
মঙ্গলবার এ বিষয়ে উত্তরা পিবিআই কার্যালয়ে ব্রিফিংয়ের সময় ঢাকা জেলা পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার কুদরত ই খুদা জানান, বামা মা ও চারবছরের ছোট বোনকে হত্যার পর ঘরে আগুন ধরিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজায় ছেলে হিমেল ও ভাড়াটে খুনি তরিকুল।
সৎছেলেকে হত্যার পরিকল্পনা করে সৎমা নিজেই হত্যার শিকার হয়েছেন। মায়ের হত্যা পরিকল্পনা জেনে গিয়ে সৎমা, বাবা ও ছোট বোনকে হত্যার পরিকল্পনা করে ছেলে হিমেল। কুদরত ই খুদা বলেন, সৎমা স্বপ্না বেগম বাবার সম্পত্তি থেকে ছেলেকে বঞ্চিত করতে তরিকুলকে দিয়ে ছেলে হিমেলকে হত্যা করতে চেয়েছিল; সেই তরিকুলের সহায়তায় হিমেল তার মা, বাবা ও বোনকে হত্যা করে।
কুদরত ই খুদা জানান, গত ১২ সেপ্টেম্বর সকালে স্বপ্না বেগম (২৮) মেয়ে জান্নাতুলকে (৪) নিয়ে স্কুলে গেলে গোপনে ঘরে প্রবেশ করে ঘুমন্ত মিজানুর রহমান বাচ্চুকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে হিমেল। এ সময় তারেক বাচ্চুর পা চেপে ধরে রাখে। পরবর্তীতে তারেক বালিশ চাপা দিয়ে বাচ্চুর মৃত্যু নিশ্চিত করে মরদেহ খাটের উপরে কাঁথা দিয়ে ঢেকে রাখে। পরে তারা স্বপ্না বেগম এবং জান্নাতুলের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে।
সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে স্বপ্না বেগম মেয়েকে নিয়ে বাসায় প্রবেশ করলে তারেক পেছন থেকে স্বপ্না বেগমের গলা চেপে ধরে বিছানার উপরে ফেলে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে। এ সময়ে জান্নাতুল চিৎকার করে উঠলে হিমেল তাকে মেঝেতে ফেলে মুখ চেপে ধরে এবং পাশে থাকা খেলনা পুতুল দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।
পরে মরদেহ তিনটি খাটের উপরে শুইয়ে বিছানার চাদর দিয়ে ঢেকে রেখে ঘরে থাকা থাকা স্বর্ণালংকার লুট করে। পূর্ব পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আসামিরা রুমের ভেতরে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে কৌশলে বাইরে থেকে দরজার ভিতরের হ্যাজবোল্ট লাগিয়ে দেয়।
কিছুক্ষণ পরে আগুনের ধোঁয়া চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে আসামিরা আগুন আগুন বলে চিৎকার শুরু করে। তাদের চিৎকারে ও আগুনের ধোঁয়া দেখে বাসার অন্যান্য ভাড়াটিয়া ও স্থানীয় লোকজন এসে রুমের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আগুন নেভায়। তারা বিছানার উপর তিনজনের মরদেহ শুইয়ে রাখতে দেখেন। পরে হত্যাকাণ্ড হিসেবে প্রতীয়মান হলে হত্যাকারী হিমেল নিজে ও স্বপ্নার বোন থানায় হত্যা মামলা করে।
কুদরত-ই-খুদা জানায়, গ্রেপ্তার আসামিরা ঘটনার সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।