দেশের সবচেয়ে বড় রেল সেতুতে শিগগিরই ট্রেন চলাচল শুরু

শিগগিরই যমুনার বুকে দেশের সবচেয়ে বড় রেল সেতু চালু হতে যাচ্ছে। তবে নবনির্মিত নতুন নামে সেতুটি উদ্বোধন হওয়ার কথা রয়েছে আগামী বছরের জানুয়ারি মাসে। আর, এলাকার লোকজন বলছেন, সেতুটি চালু হলে খুলে যাবে যোগাযোগের নতুন দুয়ার। দুর্ভোগ কমবে ঢাকা থেকে উত্তরাঞ্চলে চলাচলকারী যাত্রীদের। পাশপাশি উত্তর জনপদে ব্যবসা বাণিজ্যের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রেন চালুর আগে পরীক্ষামূলকভাবে ট্রেন চলছে যমুনা নদীর রেলওয়ে সেতুতে। গেল ২৫ নভেম্বর ট্রায়াল ট্রেনটি ২০ মিনিটে পৌছায় সেতুর পশ্চিম পাড়ে আর ফিরে আসে ১০ মিনিটে। মাঝে অন্য ট্রায়াল ট্রেনটিকে ক্রসিং করে সফলভাবে।

বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব স্টেশনের বাণিজ্যিক ইনচার্জ রেজাউল করিম জানিয়েছেন, নতুন এই রেল সেতু দিয়ে বিরতিহীনভাবে কমপক্ষে ৮৮টি ট্রেন দ্রুতগতিতে পারাপার হতে পারবে। সেতুর ওপর দিয়ে সাধারণ ট্রেন ছাড়াও অনায়াসে চলবে দ্রুতগতির ট্রেন। সেভাবেই তৈরি হচ্ছে সেতুটি।

দেশের সবচেয়ে বড় এই রেল সেতুতে প্রথম ট্রেন চালিয়েছেন মইনুল হোসেন। এই সেতু মানুষের ভোগান্তি কমিয়ে অর্থনৈতিক দিকেও ভুমিকা রাখতে পারবে বলে মনে করেন তিনি।

X03

আর এটি আনুষ্ঠানিকভাবে আগামি বছরের জানুয়ারির মাঝামাঝিতে উদ্বোধনের কথা জানানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক আল ফাত্তাহ মাসউদুর রহমান। তিনি বলেন, ১৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেতুর কাজ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন হবে। যমুনা সেতুর কাছাকাছি, ৩০ মিটার দূরত্বে, নতুন এই রেলসেতুটি তৈরি করা হয়েছে। জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে এটি রেল চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সেতুটি খুলে দেয়ার অপেক্ষায় আছেন এই পথে চলাচলকারী যাত্রীরা। তারা বলছেন, এর মাধ্যমে যমুনা সেতু ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কমার পাশাপাশি কমে যাবে আমদানি-রপ্তানির খরচও।

১৯৯৮ সালে চালু হওয়া যমুনা সেতুর কাঠামোগত সমস্যার কারণে ট্রেনের গতি কমাতে হয় এবং নির্ধারিত স্টেশনগুলোর ট্রেন চলাচলেও অপেক্ষা করতে হয়। বর্তমানে যমুনা সেতু দিয়ে ঘন্টায় ২০ কিলোমিটার গতিতে প্রতিদিন ৩৮টি ট্রেন চলাচল করে। নতুন সেতুটি চালু হলে এসব সমস্যার সমাধান হবে।

এদিকে, যমুনা নদীর ওপর নির্মিত নতুন রেলসেতুর নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নবনির্মিত আগামী জানুয়ারিতে উদ্বোধন করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে, এর নতুন নাম এখনও চূড়ান্ত হয়নি। ইতোমধ্যে সেতুর ওপর দিয়ে ট্রায়াল ট্রেন চালানো হয়েছে।