স্বৈরাচার পতনের জুলাই আন্দোলনে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী হয়ে ওঠে প্রতিরোধের স্ট্যালিনগ্রাদে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নৃশংসতা আর বিপরীতে বীর জনতার লড়াই এখন ইতিহাসের পাতায়। সেই ভয়াল স্মৃতি আর বীরত্বের কাহিনি আজও স্মরণে আছে শহীদ পরিবার ও আন্দোলনকারী ছাত্র জনতার।
টানা ৩৬ দিনের জুলাই আন্দোলন। সরকারি চাকরির কোটা বিরোধী আন্দোলন যখন ফ্যাসিবাদী সরকার পতনের অভ্যুত্থানে পরিণত হয় তখন সবচেয়ে বেশি ভয়ংকর ও প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বুলেট উপেক্ষা করেই ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক দখলে নেয় ছাত্র জনতা। নিরস্ত্র জনতার ওপর পুলিশ, র্যাব, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মুহুমুর্হু গুলি। প্রাণঘাতী মারণাস্ত্রের আঘাতে শত জনতার প্রাণ বিসর্জন। তাইতো পুলিশরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেছিলেন, স্যার একটা গুলি লাগলে একটাই মরে, বাকিগুলা সরে না।

যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া, কাজলা, দনিয়া, কোনাপাড়া ও সাইনবোর্ডসহ প্রত্যেক এলাকার অলি গলিতে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলন দমাতে না পেরে শেখ হাসিনা সরকারের কারফিউ ঘোষণা। পুলিশের বুলেটের আঘাত থেকে রক্ষা হয়নি পুলিশের ছেলেরও। ২০ জুলাই যাত্রাবাড়ীর কাজলায় ইমাম হাসান তাইমকে গুলি করে হত্যা দৃশ্য এবং তাকে বাঁচাতে বন্ধুর প্রাণপণ চেষ্টার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পরলে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

ছাত্র জনতার এই আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে রাজপথে নেমে আসে স্থানীয় নারী পুরুষ। খাবার, পানিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম দিয়ে সহযোগিতা করেন তারা। ইন্টারনেট বন্ধ, কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন তারপরও আন্দোলন দমাতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজপথ দখলে রাখে তারা।

যাত্রাবাড়ীর জুলাই আন্দোলনে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর উপস্থিতিটাও ছিলো বেশ। এই শিক্ষার্থীরা ৫ আগস্ট পর্যন্ত ছাত্র-জনতার সঙ্গে সমান তালে পুলিশের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে।

যাত্রাবাড়ীতে জুলাই প্রতিরোধ, সরকার পতনের আন্দোলন হিসেবে গড়ে উঠতে বড়ো ভূমিকা রাখে বিএনপি ও দলটির সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীরা। যাত্রাবাড়ীর পাশাপাশি ঢাকার আশেপাশের জেলা থেকে দলটির নেতাকর্মীরা যাত্রাবাড়ীতে যোগ দেয়।

৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের খবরে চারদিকে বিজয় উল্লাস। তখনেও যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশ পরিণত হয় আজরাইলে। হাজারো মানুষের বিজয় মিছিলে গুলি চালায় তারা। থানার বিপরীত প্রান্তে শহীদ হন মিরাজ হোসেন। ছেলের সেই রক্তমাখা শার্ট সন্তান হারা পিতার একমাত্র স্মৃতি।
যাত্রাবাড়ী থানার সামনে, সন্তানের মৃত্যুর সেই স্থানটা মিরাজ হোসেনের বাবা ভালোভাবেই চিহ্নিত করে রেখেছেন। শ্রমিক, রিকশা চালক কিংবা ছাত্র জনতা দলমত-নির্বিশেষে অংশ নেয়া এই আন্দোলনে শত শত মানুষ শহীদ হলেও যাত্রাবাড়ী গোল চত্বরের নাম ফলকে স্থান পেয়েছে ৪৮ জনের নাম।
২-৩ দিনের মধ্যে ‘ঐতিহাসিক সনদ’ চূড়ান্ত প্রক্রিয়ায় পৌঁছাবে: আলী রীয়াজ