টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বাসে ডাকাতি ও শ্লীলতাহানীর মামলায় তিন আসামীর মধ্যে দুইজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অপর আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
শনিবার বিকেলে টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসামিদের হাজির করা হলে সন্ধ্যায় বিচারক নওরিন করিম এ আদেশ দেন।
এর আগে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের তিন সদস্যকে শুক্রবার সন্ধ্যায় সাভার উপজেলার টান গেন্ডা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
গ্রেপ্তাররা হলেন- মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর উপজেলার লাউতারা গ্রামের বদর উদ্দিন শেখের ছেলে শহিদুল ইসলাম মুহিত (২৯), শরিয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের ইসমাইল মোল্লার ছেলে মো. সবুজ (৩০) ও ঢাকা জেলার সাভার উপজেলার টান গেন্ডা ৯নম্বর ওয়ার্ডের আবুল হোসেনের ছেলে মো. শরীফুজ্জামান শরীফ (২৮)।
শনিবার দুপুরে পাঁচদিনের রিমান্ড চেয়ে গ্রেপ্তারদের আদালতে সোপর্দ করা হয়। তাদের মধ্যে শহিদুলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। অপর দুই আসামি সবুজ ও শরীফ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
নাটোরের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানান, এই ঘটনায় প্রথমে বাসের চালক, সুপারভাইজার ও হেলপারকে আটক করা হয়। কিন্তু পরে তারা জামিনে ছাড়া পান। এছাড়া মির্জাপুরের ডিউটি অফিসার এ এস আই আতিকুজ্জামানকে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে পুলিশ সুপার আরও বলেন, দুই নারী যাত্রীকে ধর্ষণের কথা শোনা গেলেও এ ব্যাপারে নিশ্চিত না হয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না। বিষয়টি তদন্তাধীন। তবে ওই দুই নারী শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছেন।
এর আগে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে ইউনিক রোড রয়েলস পরিবহনের একটি বাস ঢাকার গাবতলী ছেড়ে যায়। রাত পৌনে দুইটার দিকে বাসটি গাজীপুরে কালিয়াকৈর পার হয়ে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের সোহাগপাড়া ফুটওভার ব্রিজের কাছে পৌঁছলে ৬/৭ জনের ডাকাত দল বাস যাত্রীদের জিম্মি করে।
এসময় তারা যাত্রীদের কাছে থেকে মোট পাঁচ লাখ ২৪ হাজার ৬০০ টাকা লুটে নেয় এবং দুই নারী যাত্রী শ্লীলতাহানীর শিকার হন।
এ ঘটনায় শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে ওই বাসের যাত্রী বড়াইগ্রাম উপজেলার ওমর আলী বাদি হয়ে মির্জাপুর থানায় মামলা (নং-১৭, ধারা- নারী ও শিশু নির্যাতন) করেছেন বলে জানিয়েছেন মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোশারফ হোসেন।