যারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায় তারাই হ্যাঁ-না ভোট চায়: বুলু

যারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, বিদেশি এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে এবং একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে চায় তারাই গণভোটের নামে হ্যাঁ-না ভোট চায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী বরকত উল্লাহ বুলু। তিনি বলেন, তারা নির্বাচিত সরকার আসুক তা চায় না । তারা চায় অনির্বাচিত সরকার। তাদের মাথায় এসব চিন্তা আসে। 

বৃহস্পতিবার দুপরে নোয়াখালীর চৌমুহনীর একটি রেস্টুরেন্টে জুলাই-আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে বেগমগঞ্জে শহীদ পরিবারের মাঝে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনরে পক্ষ থেকে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। 

বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, ৫০টি জোটের একটি কথা তা হলো, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে এবং নির্বাচিত সরকার ছাড়া দেশের সংকট নিরসন করার কোনো বিকপ্ল পথ নেই।

তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে থেকে কয়েকজন উপদেষ্টা পদত্যাগ করেছেন আবার কয়েকজন আছেন যারা ছাত্র রাজনীতি করেন। তারা হলে থাকতেন এবং মেসে থাকতেন। তারা এখন আগে পিছনে কয়েকশ গাড়িবহর নিয়ে চলাফেরা করেন। বিলাসবহুল জীবন যাপন করছেন। তারা জামা-জুতা-হাত ঘড়ি দামি দামি জিনিসপত্র ব্যবহার করেন। কোটি কোটি টাকা খরচ করে ইন্টারকন্টিনেন্টালে ইফতার করেছেন এবং কোটি কোটি টাকা খরচ করে দলের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান করেছেন। তারা আগে পড়তেন পাঁচশ' টাকার পাঞ্জাবি, এখন পড়েন ৩০ হাজার টাকা দামের পাঞ্জাবি। হঠাৎ করে তাদের চেহারায় রশ্মি এসেছে। তারা প্রশাসনের তদবির করছেন। অমুক কে অমুক জায়গায় দিতে হবে । এর থেকে জাতি মুক্তি পেতে চায়। 

জুলাই-আগস্ট আন্দোলন সংগ্রামে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সরাসরি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেমন ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানে বেগম খালেদা জিয়া নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। জুলাই-আগস্টে তারেক রহমানের ঐতিহাসিক ভূমিকার কারণে বাংলাদেশে ৫০টি দল নিয়ে যে জোট করেছেন তার কারণে শেখ হাসিনাকে দেশ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে। 

বুলু বলেন, ১৯৯০ সালে দেশকে সংকট থেকে উত্তরণের জন্য বিচারপতি সাহাবুদ্দিন যেমনি ৯০ দিনের মধ্যে একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য ভোট উপহার দিয়েছিলেন তেমন বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইউনূসও দ্রুত সময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোড ম্যাপ ঘোষণা করে নির্বাচন উপহার দিবেন। 

এ বিএনপি নেতা আরাও বলেন, ৫ আগস্ট সেনাবাহিনী যদি শেখ হাসিনাকে তার মাতৃভূমি ভারতে না পাঠাতো তাহলে দেশে আরও একটি ঘটনা ঘটতো। আমাদের সেনাবাহিনী মুক্তিযুদ্ধের সেনাবাহিনী । তারা যদি ১৯৭১ সালে পাকিস্তান আর্মিতে যদি বিদ্রোহ ঘোষণা না করতো এবং তরুণ মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা না দিতেন তাহলে দেশ স্বাধীন হতো না। সেনাবাহিনী হলো দেশপ্রেম সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীকে নিয়ে যারা বিতর্ক করতে চায় তারা স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের শত্রু। 

এসময় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপি সাবেক সদস্য শামীমা বরকত লাকী, বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামাক্ষ্যা চন্দ্র দাস, সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হক আবেদসহ আরও অনেকে।