নীলফামারীতে কমতে শুরু করেছে তিস্তা নদীর পানি। শুক্রবার (২০ আগস্ট) সকাল ৬টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত তিন দফায় নদীর পানি ৩০ সেন্টিমিটার কমে বর্তমানে বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এক দিনের ব্যবধানে বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) সকাল থেকে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে রাত ৯টায় বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটারে পৌঁছে। এতে নদীর তীরবর্তী নীলফামারীর ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ১৫টি চরগ্রাম প্লাবিত হলে পানি বন্দী হয়ে পড়েন এসব এলাকার অন্তত পাঁচ হাজার পরিবার। নদীর পানি কমতে শুরু করায় এসব চরগ্রাম থেকে পানি নামতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড নীলফামারীর ডালিয়া বিভাগের বন্যা পূর্ভাবাস ও সর্তকীকরণ কেন্দ্র জানায়, তিস্তার উজান ভারত অংশে মাঝারি ও ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় পাহাড়ী ঢলে গত এক সপ্তাহ থেকে নীলফামারীতে তিস্তা নদীর পানি বাড়া-কমার মধ্যে রয়েছে।
বুধবার( ১৮ আগস্ট) সকাল থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত তিস্তার নদীর পানি বিপদসীমার ২৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও বিকালের পর থেকে উজান থেকে নেমে আসা ঢলে নদীতে পানি বাড়তে থাকে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড নীলফামারী ডালিয়া বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসফাউদদৌলা জানান, বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় নদীর পানি বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপরে উঠলেও রাত ১০টার পর থেকে নদীর পানি কমতে থাকে। বর্তমানে বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো বাঁধ ভাঙনের খবর পাওয়া যায়নি। তিস্তা ব্যারাজের সব ক'টি জলকপাট খুলে রেখে পানি নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। বর্তমানে পানি কমা অব্যাহত রয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী বিকাল নাগাদ নদীর পানি বিপদসীমার আরও অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হবে।
আরও পড়ুন: বাড়ছে পদ্মার পানি, বইছে বিপদসীমার ওপর দিয়ে
এদিকে তিস্তায় পানি বিপদসীমা অতিক্রম করায় জেলার ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী ও গয়াবাড়ী ইউনিয়নের ১৫টি চর গ্রাম নদীর পানিতে প্লাবিত হওয়ায় বাড়ি ঘরে পানি প্রবেশ করায় ওই সব গ্রামের পাঁচ হাজার পরিবার বন্যা কবলিত হয়ে পড়ে।
একাত্তর/আরবিএস