কুমিল্লায় ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় আরও ছয়জন গ্রেপ্তার

কুমিল্লা মুরাদনগরের কড়ইবাড়ী এলাকায় মা, ছেলে ও মেয়েকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। 

শনিবার (৫ জুলাই) দুপুরে এক বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে র‌্যাবের মিডিয়া সেল। তবে প্রাথমিকভাবে গ্রেপ্তারদের নাম–পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। 

বার্তায় জানানো হয়েছে, কুমিল্লার মুরাদনগরের চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় জড়িত ছয়জন আসামিকে আটক করেছে র‍্যাব-১১। 

এ বিষয়ে বিকাল সাড়ে ৫টায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারের র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে। র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন এ নিয়ে ব্রিফ করবেন।

নিহত রোকসানা আক্তার রুবি, রুবির মেয়ে জোনাকি আক্তার ও ছেলে রাসেল মিয়া।

এর আগে এই ঘটনায় আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে সেনাবাহিনী। তারা হলেন- ওই এলাকার সবির আহমেদ ও নাজিম উদ্দিন বাবলু। এ নিয়ে এ ঘটনায় মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করা হলো।

‌গেলো বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) সকালে উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানার করইবাড়ী গ্রামে মোবাইল চুরির অভিযোগ তুলে ‘মব’ সৃষ্টি করে দুই নারীসহ তিনজনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে একদল মানুষ। 

নিহতরা হলেন- খলিলুর রহমানের স্ত্রী রোকসানা আক্তার রুবি (৫৩), ছেলে রাসেল মিয়া (৩৫) এবং মেয়ে জোনাকি আক্তার (২৫)। গুরুতর আহত অবস্থায় কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন রুবির আরেক মেয়ে রুমা আক্তার (৩০)।

স্থানীয়দের ভাষ্য, রুবি ও তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা, সুদের কারবার, সন্ত্রাসসহ নানা অপরাধে জড়িত ছিলো। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মাদক, ডাকাতি ও সন্ত্রাসের একাধিক মামলা রয়েছে। প্রশাসনের নজরদারিতেও দীর্ঘদিন কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় গ্রামবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে।

তারা জানান, সম্প্রতি একটি মোবাইল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার সকালে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তারা রুবির বাড়িতে হামলা চালায় এবং বেধড়ক পিটিয়ে ও কুপিয়ে তিনজনকে হত্যা করে। ঘটনার পর করইবাড়ি গ্রামে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেক বাসিন্দা এলাকা ছেড়ে গেছেন। 

সবশেষ গতকাল শুক্রবার দিনগত রাতে ৬৩ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন নিহতের মেয়ে রিক্তা আক্তার।