কুমিল্লার মুরাদনগরে কড়াইবাড়ি গ্রামে ‘মব’ সৃষ্টি করে পিটুনি ও কুপিয়ে এক পরিবারে তিন জনকে হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। ‘২৪ ঘণ্টায় মামলা হয়নি’ শিরোনামে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর শুক্রবার (৪ জুলাই) রাতে নিহত রুবি আক্তারের বড় মেয়ে রিক্তা আক্তার বাদি হয়ে ৩৮ জনের নামে মামলা করেন। অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে অন্তত ২৫ জনকে।
এদিকে মামলার পর ওই ঘটনায় উপজেলার আকবপুর এলাকা থেকে দুই জনকে গ্রেপ্তার করেছে সেনা সদস্যরা। তারা হলেন- ওই এলাকার সবির আহমেদ ও নাজিম উদ্দিন বাবলু।
বাঙ্গরা থানার অফিসার ইনচার্জ মাহফুজুর রহমান জানান, গ্রেপ্তারদের আদালতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে যৌথ বাহিনীর অভিযান চলছে।
গেলো বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) সকালে উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানার করইবাড়ী গ্রামে মোবাইল চুরির অভিযোগ তুলে ‘মব’ সৃষ্টি করে দুই নারীসহ তিন জনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে একদল মানুষ।
নিহতরা হলেন- খলিলুর রহমানের স্ত্রী রোকসানা আক্তার রুবি (৫৩), ছেলে রাসেল মিয়া (৩৫) এবং মেয়ে জোনাকি আক্তার (২৫)। গুরুতর আহত অবস্থায় কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন রুবির আরেক মেয়ে রুমা আক্তার (৩০)।
স্থানীয়দের ভাষ্য, রুবি ও তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা, সুদের কারবার, সন্ত্রাসসহ নানা অপরাধে জড়িত ছিলো। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মাদক, ডাকাতি ও সন্ত্রাসের একাধিক মামলা রয়েছে। প্রশাসনের নজরদারিতেও দীর্ঘদিন কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় গ্রামবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে।
তারা জানান, সম্প্রতি একটি মোবাইল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার সকালে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তারা রুবির বাড়িতে হামলা চালায় এবং বেধড়ক পিটিয়ে ও কুপিয়ে তিনজনকে হত্যা করে। ঘটনার পর করইবাড়ি গ্রামে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেক বাসিন্দা এলাকা ছেড়ে গেছেন।
পাঁচ ঘণ্টা পর খুলনার সঙ্গে দেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক