পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর গাইয়াপাড়া লঞ্চঘাটটি শুধু নামেই লঞ্চঘাট। নেই পন্টুন। চলাচলের জন্যও নেই সড়ক। প্রতিদিন ভাটার সময় কাঁদা পেরিয়ে, আর জোয়ারের সময় পানি পেরিয়ে লঞ্চে যাতায়াত করছেন যাত্রীরা।
এই ঘাট দিয়ে পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলোতে যাতায়াত করে শত শত মানুষ। কিন্তু যাত্রীদের অভিযোগ, তাদের সেবার জন্য নেই পন্টুন। মূল সড়কে ওঠার জন্য নেই সংযোগ সড়কও।
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের গাইয়াপাড়া লঞ্চঘাট। এই ঘাটে প্রতিদিন সকাল-বিকেল লঞ্চ ভেড়ে ঠিকই, কিন্তু এখানে নেই কোনো পন্টুন। তাই ভাটার সময় লঞ্চ যাত্রীদের নামতে ও উঠতে হয় কাঁদার মধ্য দিয়ে। আর জোয়ারের সময় হাঁটু পানি পেরিয়ে।
এমনকি লঞ্চ থেকে নেমে মূল সড়কে যাওয়ার জন্য নেই কোনো সংযোগ সড়ক। এ কারণে প্রায় ৪০০ মিটার কাঁদা-পানির পথ পেরিয়েই যেতে হয় পাকা সড়কে।
চিকিৎসা-ব্যবসাসহ নানা প্রয়োজনে এ ঘাটে আসা-যাওয়া হয় যাত্রীদের। এলাকার লোকজন বলছেন, এখানে একসময় সংযোগ সড়ক ছিলো, সেটাও ভেঙে গেছে দীর্ঘদিন আগে।
লঞ্চ চালকরা বলছেন, পন্টুন না থাকায় নদীর তীরে লঞ্চ ভেড়ানো কষ্টকর হয়ে পড়ে।
রাঙ্গাবালীর বড়বাইশদিয়া ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান জাফর মৃধা জানান, দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ এই ঘাটে পন্টুন খুবই দরকার। একই সঙ্গে দরকার সংযোগ সড়ক।
উপজেলা প্রকৌশলী মো. হাবিবুর রহমান জানান, সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ হলে টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাজ শুরু করা হবে।
আর রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীব দাশ পুরকায়স্থ জানান, ঘাটটিতে পন্টুন স্থাপনের জন্য বিআইডব্লিউটিএকে জানানো হবে। দ্রুত পন্টুন দিতে না পারলে এডিপি প্রকল্পের মাধ্যমে আপাতত পন্টুন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হবে।
রাঙ্গাবালীর গাইয়াপাড়া লঞ্চঘাট দিয়ে প্রতিদিন নৌপথে শত শত মানুষের চলাফেরা। এমন সীমাহীন দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পেতে মানুষ এখনই এই সমস্যার সমাধান চান।