মৌসুমি বায়ুর বৈরী প্রভাবে ভোলা জেলার উপকূলীয় এলাকা প্লাবিত হওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। টানা বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ায় নদনদী উত্তাল থাকায় গত তিনদিন ধরে জেলার অভ্যন্তরীণ ২০ রুটের নৌ-চলাচল বন্ধ রেখেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।
বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) ভোলা আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষক মো. মনিরুজ্জামান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ভোলায় প্রায় ৪১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে বৈরী আবহাওয়া ও বিরামহীন বৃষ্টিপাতের কারণে বিপাকে পড়েছেন স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষ।
নদী উত্তাল হওয়ায় তিনদিন ধরে জেলার ইলিশা টু লক্ষ্মীপুর, মনপুরা টু ঢাকা, চরফ্যাশন টু ঢাকাসহ জেলার অভ্যন্তরীণ ২০ নৌরুটে যাত্রীবাহী লঞ্চ ও সরকারি সি-ট্রাক চলাচল বন্ধ রয়েছে।
বিআইডব্লিউটিএ-এর ট্র্যাফিক ইনচার্জ মো. পারভেজ সরকারি বার্তা সংস্থাকে বলেন, ভোলা-বরিশাল ও ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুটে আবহাওয়ার গতি-প্রকৃতি বুঝে কিছু ফেরি চলাচল করছে।
তিনি জানান, ভোলার ইলিশা-লক্ষ্মীপুর, ইলিশা- মেহেন্দিগঞ্জ, ভোলা-বাউফল, লালমোহন-নাজিরপুর, দৌলতখান-আলেকজান্ডার, তজুমদ্দিন-মনপুরা, মনপুরা-হাতিয়া, চরফ্যাশন-মনপুরা, চরফ্যাশন-ঢাকা, মনপুরা-ঢাকা, চরফ্যাশনের ঘোষের হাট-ঢাকা, বোরহানউদ্দিনের হাকিমউদ্দিন-ঢাকা, ভোলার ভেদুরিয়া ঘাট-বরিশালের লাহার হাট, চরফ্যাশনের কচ্ছপিয়া-ঢালচর, চরফ্যাশনের কচ্ছিয়া-কুকরী-মুকরী, চরফ্যাশনের কচ্ছিয়া-চর পাতিলা, চরফ্যাশনের আবুবকরপুর-দশমিনা, ভোলা সদরের তুলাতুলি-মাঝের চর, ভোলা সদরের ইলিশা-রামদাসপুর এবং ভোলা সদরের নাছির মাঝি- দৌলতখানের চর মদনপুর ইউনিয়ন-এর সাথে নৌচলাচল বন্ধ রয়েছে।
বিআইডব্লিউটিএ-এর ভোলা বন্দর কর্মকর্তা রিয়াদ হোসেন বলেন, নৌযান চলাচলের জন্য এখনও নদীপথ স্বাভাবিক হয়নি। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া না কাটলে কোনো প্রকার লঞ্চ চলাচল করতে দেয়া হবে না।